নোয়াখালীর ভাষার মধ্যে রয়েছে অন্য এক মাদকতা

- মাস্টারমাইন্ড প্রিন্স মাহী

বাংলা ভাষা নিঃসন্দেহে বিশ্বের সমৃদ্ধ ভাষার মধ্যে অন্যতম। এ ভাষা আরো সমৃদ্ধ হয়েছে এর আঞ্চলিক ভাষা গুলোর জন্য। সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, কুষ্টিয়া প্রভৃতি অঞ্চলের ভাষার মধ্যে রয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য। কিন্তু নোয়াখালীর ভাষার মধ্যে রয়েছে অন্য এক মাদকতা। বিভিন্ন এলাকার ভাষার মধ্যেও রয়েছে নানান বৈচিত্র্য। বৃহত্তর নোয়াখালীর ফেণী, রায়পুর-লক্ষীপুর, বেগমগঞ্জ-চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট, হাতিয়া এবং মাইজদী প্রভৃতি অঞ্চলের আলাদা আলাদা ভাষার টান রয়েছে। শব্দ ও ভাষাতে কিছু কিছ ভিন্নতাও রয়েছে। খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলে এর বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে রয়েছে অসাধারণ রসবোধতা। নানান কথায় নানান রসিকতায় এ ভাষা প্রাঞ্জল হয়ে উঠে। গ্রামীণ নারীদের ভিতর নানান স্লোক রসিকতা দিয়ে কথা বলার প্রচলন বহু কাল ধরেই রয়েছে। যে কোনো উৎসব পার্বনে এ ভাষাতে চলে নানান রসিকতার আয়োজন।
অনেকেই এ ভাষার উপর গবেষণা করেছেন। কিন্তু এ ভাষাকে নিয়ে আরো প্রচুর গবেষণার ক্ষেত্র রয়ে গেছে। এ ভাষায় প্রচুর গান নাটক লেখা হয়েছে। যেগুলো একেবারে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষাতেই রচিত হয়েছে। সেগুলোর জনপ্রিয়তাও প্রচুর। সেলিম আল দীন নোয়াখালী ভাষায় নাটক লিখে ও পরিবেশন করে এ ভাষাকে আরো নান্দনিকতায় এনে দিয়েছেন। তাঁর ‘হাতহদাই’ ক্লাসিক নাটকটি আঞ্চলিক ভাষার এক অনবদ্য সাহিত্য। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত নোয়াখালী ভাষার নাটক গুলো বিভিন্ন দর্শকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। নোয়াখালী ভাষার এক নিবেদিত সাধক অধ্যাপক মোঃহাশেম এ অঞ্চলের মাটির ভাষায় প্রচুর গান রচনা করেছেন। সে গান গুলো এ অঞ্চলের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষার মত বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষাগুলোও বাংলা ভাষাকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। আঞ্চলিকতার দোষে সেগুলো আমাদের মূল ভাষাতে স্থান করে নিতে পারেনি। গণমানুষের ভাষা হিসাবে গণমানুষের কাছেই কেবল সেগুলো সমাদৃত হয়ে আছে।

(মোট পড়েছেন 664 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন