আঁঙ্গো নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষা মাতৃস্তন্য স্বরূপ

- মাস্টারমাইন্ড প্রিন্স মাহী

নোয়াখালীর আঞ্চলিক মাতৃভাষা নিয়ে আমরা গর্বিত, কেননা এই ভাষার রয়েছে গৌরবময় ঐতিহ্য। অনেক দেশের জনসাধারণের কথ্য ভাষা থেকে এই ভাষার জন্ম। অনেক যুগ আগে থেকেই আমাদের নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় সাহিত্য উপন্যাস, গান, কবিতা, নাটক রচনা শুরু হয়। আমাদের এই আঞ্চলিক ভাষায় রচিত শত শত বছরেরও পুরনো সাহিত্য পাওয়া গিয়েছে। এত প্রাচীন সাহিত্য উপমহাদেশের আর কোন ভাষাতেই পাওয়া যায়নি। পৃথিবীর কম ভাষাতেই এত প্রাচীনকালের সুস্পষ্ট সাহিত্য প্রচেষ্টার নিদর্শন আছে। হাজার বছরের পুরনো বাংলা গীতিকা যা পাওয়া গেছে নেপালের রাজদরবারের পুঁথিমালা থেকে। তার নাম চর্যাগীতি। আমাদের নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষা অন্যান্য জেলার মানুষের দরবারে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত। নোয়াখালীর লোকগাঁথা সমগ্র বাংলাদেশের সংস্কৃতিসেবীদের উচ্চ প্রশংসা কুড়িয়েছে। ঐতিহ্য এবং আঞ্চলিক ভাষার দিক থেকে আমাদের ভাষা শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে। সব ভাষা-ভাষীর কাছে তার মাতৃভাষা বাংলা হলেও কিন্তু তার আঞ্চলিক ভাষা সব সময় আদরনীয়। কিন্তু আমাদের এই আঞ্চলিক ভাষার বোল এমনই যে, বিদেশিরাও এর ধ্বনি মাধুর্যে মোহিত না হয়ে পারেন না। আমাদের নোয়াখালী, লক্ষীপুর এবং ফেনী বাসীর কাছে এই ভাষা মাতৃস্তন্য স্বরূপ। মায়ের বুকের দুধ না হলে শিশুর প্রাণ ভরে না, তার দেহের যথার্থ পুষ্টি হয় না। আমরাও প্রাণবান মানুষ হয়ে বেড়ে উঠি আমাদের আঞ্চলিক ভাষার রস পান করে। শৈশবে স্বপ্ন দেখেছি যে ভাষায় কৈশোরে কল্পনার মায়াজাল বুনে এই পৃথিবীকে রঙিন করে দেখেছি যে ভাষার আলেখ্যে, সে ভাষা আমার নোয়াখালীর আঞ্চলিক বাংলা। পরিশেষে স্মরণ করি তাদের, যারা আমাদের ভাষা ও সাহিত্যের জন্য জীবন দিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন।

(মোট পড়েছেন 425 জন, আজ 2 জন)
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন