আসুন জারিনের পাশে দাঁড়াই

- নাজমুল আহসান

জারিনকে আমি চিনতাম না। কেউ একজন জানিয়েছিলো ব্যাপারটা। তখন থাকতাম স্কয়ার হসপিটালের একদম কাছেই একটা বাসায়, ভাবলাম একবার দেখেই আসি। হসপিটালের শুভ্র বিছানায় ফুটফুটে জারিনকে একদমই মানাচ্ছিলো না। চঞ্চল একটা বাচ্চা, যার সারাদিন হৈচৈ করে বাড়ি মাতিয়ে রাখার কথা তার কিভাবে এমন ভয়াবহ একটা অসুখ হতে পারে। ডাক্তার জানালেন উন্নত চিকিৎসার জন্যে জারিনকে দেশের বাইরে নিতে হবে। দরকার প্রায় ১৫ লাখ টাকা ! ওর বাবার সাথে কথা হলো। ভদ্রলোকের করুণ চোখ দেখেই বিপদটা আঁচ করতে পারলাম।
ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছুই করার ছিলোনা। পত্রিকা অফিসগুলোতে বারকয়েক ঘোরার পর ১০ই এপ্রিল ২০১০ তারিখে সাহায্যের আবেদন ছাপা হলো একটা পত্রিকায়।জারিনকে ইন্ডিয়া নিয়ে যাওয়া হলো। তারপর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। মাঝে মাঝে মনে পড়তো, যোগাযোগ করতে পারতাম না। সেই জারিনকে গত ৪ ডিসেম্বর ২০১০ দেশে আনা হয়েছে। চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টাকা । ডাক্তাররা বলেছেন ও ৮০ ভাগ স্বুস্থ্ । এখন প্রতি ৩ মাস অন্তর ওকে ইন্ডিয়ায় নিয়ে যেতে হবে, নিয়ে যেতে হবে ৮ বার। আনুসাঙ্গিক খরচ বাদে শুধু ওখানকার হসপিটালকেই দিতে হবে প্রতিবার ১লাখ করে টাকা। ভিটেমাটি যাওয়ার পর ঋণ করে যে ১৪ লাখ টাকা জারিনের পরিবার ব্যয় করেছে সেটারই কোনো সমাধান হয়নি, বাকি টাকাগুলো আসবে কোথা থেকে। আরো তো প্রায় সমপরিমাণ টাকা দরকার।
আসুন আমরা জারিনের পাশে দাঁড়াই। আমরা যে পারি তার তো অনেক নজির আছে। আমরা অমিতের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম না ? তাহলে জারিনের ফুটফুটে মুখটা আমরা আবার আলোয় ভরিয়ে পারবো না কেন ?
সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা: সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ৮৬৫৭, জনতা ব্যাংক, রুকিন্দীপুর শাখা, জামালগঞ্জ, জয়পুরহাট। ফোন-০১১৯১৪৬৬০১৮

(মোট পড়েছেন 59 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন