মেসি! মেসি! মেসি!

- mahmudmurad00

লিওনেল আন্দ্রেস “লিও” মেসি কুচ্চিত্তিনি (জন্ম: ২৪ জুন ১৯৮৭) একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবলা খেলোয়াড় যিনি স্পেনের সর্বোচ্চ স্তরের পেশাদার ফুটবল লীগ প্রতিযোগিতা লা লিগাতে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের পক্ষে একজন ফরোয়ার্ড (আক্রমণভাগের খেলোয়াড়) হিসেবে খেলেন। তিনি বর্তমানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক। মাত্র ২১ বছর বয়সেই মেসি বালোঁ দর এবং ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়পুরস্কার দু’টির জন্য মনোনীত হন। পরের বছর তিনি প্রথমবারের মত বালোঁ দর এবং ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেন। ২০১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে বালোঁ দর এবং ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় পুরস্কার দুটিকে এক করে নাম দেওয়া হয় ফিফা বালোঁ দর। উদ্বোধনী বছরেই এই পুরস্কার জিতেন তিনি।এরপর ২০১১ এবং ২০১২ সালের পুরস্কারও জিতেন তিনি। ২০১১–১২ মৌসুমে তিনি ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন। ২৪ বছর বয়সেই তিনি সব ধরণের অফিসিয়াল প্রতিযোগিতায় বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত হন।২৫ বছর বয়সে তিনি লা লিগায় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ২০০ গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ক্লাব ও জাতীয় দল – উভয় মিলিয়ে তিনি তার ক্যারিয়ারের ৪০০তম অফিসিয়াল গোল করেন। একই বছরের নভেম্বরে তিনি লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লীগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত হন। ২০১৭ সালের মে মাসে তিনি বার্সেলোনার হয়ে নিজের ৫০০ তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

অনেক ধারাভাষ্যকার, কোচ এবং খেলোয়াড় তাকে বর্তমান সময়ের সেরা এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে দাবী করে থাকেন।বার্সেলোনার সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা কাতালুনিয়া রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন আমি তার মস্তিষ্কে ঢুকে দেখতে চাই সে আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনার হয়ে এত চাপ কি ভাবে সামলায়।

মেসি ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় যিনি টানা পাচটি ফিফা / বালোঁ দর পুরস্কার জিতেছেন। এছাড়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি তিনটি ইউরোপীয়ান গোল্ডেন শু পুরস্কারও জিতেছেন। বার্সেলোনার হয়ে মেসি আটটি লা লিগা, পাঁচটি কোপা দেল রে, সাতটি স্পেনীয় সুপার কোপা, চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ, তিনটি উয়েফা সুপার কাপ এবং তিনটি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছেন।

মেসি প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা চারটি চ্যাম্পিয়নস লীগে সর্বোচ্চ গোল করেছেন এবং প্রতিযোগিতায় তার সর্বোচ্চ হ্যাট্রিকেরও রেকর্ড রয়েছে (৭টি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর)। ২০১২ খ্রিস্টাব্দের মার্চে চ্যাম্পিয়নস লীগে বেয়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে খেলায় পাঁচ গোল করে মেসি ইতিহাস গড়েন।এছাড়া তিনি চ্যাম্পিয়নস লীগের এক মৌসুমে হোসে আলতাফিনির করা ১৪ গোলের রেকর্ডও স্পর্শ করেন।২০১১–১২ মৌসুমে সব ধরণের প্রতিযোগিতায় ৯৬টি গোল করার মাধ্যমে ইউরোপীয় ফুটবলে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড গড়েন মেসি। টানা ৮ মৌসুমে ৪০ এর অধিক গোল করা একমাত্র ফুটবলার মেসি।ঐ একই মৌসুমে, লা লিগায় ৫০ গোল করার মাধ্যমে লা লিগার এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও গড়েন তিনি।মেসি ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় যিনি একই মৌসুমে ছয়টি আলাদা অফিসিয়াল প্রতিযোগিতায় গোল এবং গোলে সহায়তা উভয়ই করেছেন। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মার্চ মেসি লা লিগায় টানা ১৯টি খেলায় গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লীগের সব কয়টি দলের বিপক্ষে টানা গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি।অবশ্য তিনি টানা ২১টি খেলায় গোল করেছিলেন। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলায় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির (hamstring injury – উরূর মাংসপেশীর টান) কারণে মাঠ ছাড়লে তার এই গোলরথ থামে। ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৩ , রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করার মাধ্যমে এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল এবং হ্যাট্রিক করার রেকর্ড গড়েন মেসি।এরপর নভেম্বরে, সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাট্ট্রিক করার মাধ্যমে ২৫৩ গোল নিয়ে তিনি লা লিগার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার গৌরব অর্জন করেন। ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ এপ্রিল, মেসি বার্সেলোনার হয়ে তার ৫০০তম গোল করেন।

মেসি আর্জেন্টিনাকে ২০০৫ ফিফা অনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপ জয়ে সাহায্য করেন। প্রতিযোগিতায় তিনি সর্বোচ্চ ছয়টি গোল করেন এবং সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন। ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনা রানার-আপ হয় এবং তিনি প্রতিযোগিতার কনিষ্ঠ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনা অলিম্পিক ফুটবল দলের হয়ে মেসি স্বর্ণপদক জিতে নেন। এটিই ছিল তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মাননা। ২০১৪ বিশ্বকাপেতিনি আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেন। তিনি টানা চার খেলায় সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন এবং দলকে ফাইনালে নিয়ে যান। প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় হিসাবে তিনি গোল্ডেন বলের পুরস্কারও জিতেন। খেলার ধরন এবং দৈহিক গঠনের কারণে তাকে তারই স্বদেশী দিয়েগো মারাদোনার সাথে তুলনা করা হয় যিনি নিজেই মেসিকে স্বীয় ‘‘উত্তরসূরি’’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

(মোট পড়েছেন 411 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন