একজন দেবদাসির গোপন কান্না

- মাহবুবুল আলম

রাতে ভয়ঙ্কর যমদূতের মতো স্ক্রল করে আসে দেবদূত কালাপাহাড়; কোনো বাজে স্বপ্ন নয় এটা, একবারে জ্বলজ্বলে অগ্নীসাক্ষী, মা কালির দিব্যি। প্রতিরাতেই ভয়ের সেই অদ্ভুত সরিসৃপ গা বেয়ে চড়ে বসে উপরে। গিরিখাত, কপোল, অধর, নাভীমূলে ঠোঁট ঘষে; এঁকে দেয় নকল আদরের নকল প্রলেপ, আর আমি উত্তেজনাহীন অসার দেহ নিয়ে পড়ে থাকি চোখ বন্ধ করে; বাঁধা দিলেই যে সে চেপে ধরে টুটি। স্বার্থসিদ্ধির চরম পর্যায়ে গাঢ়ো অন্ধকারে চলে যায় সে কুচকিতে যৌনতার বিষ ঢেলে, আমি এক ভোগের সামগ্রী পড়ে থাকি জলন্ত জাহান্নামে। কার এমন শক্তি করে দেবে গোপন ফাঁস? একজন সেবাদাসির কথার কি বা দাম কিইবা মূল্য জগত-সংসারে; বরং চুপ করে সয়ে যাই সয়ে যেতে হয় নিপীড়ণ। অথচ দিনের আলোয় ভয়ঙ্কর কালাপাহাড় ধোয়া তুলসী পাতা; পূজোর মন্দিরে, ঘন্টা বাজান দ্রুতলয়ে’ ধূপের ধোয়ায় অচ্ছন্ন এক অতিমানব, শত ভক্তি-শ্রদ্ধায় গ্রহণ করেন অঞ্জলী প্রণামী। মুখে চলে অবিরাম মন্ত্রপাঠ, চেহারায় সৌম্যরূপ। আর আমি যৈবতী সেবাদাসী, কষ্টের পাথর চেপে মন্দিরের অন্তপুরে ব্যস্ত হয়ে পড়ি পূজা-আর্চনা নকল আরাধনায়। আমার এ সন্তাপে একবার এসেও বলেনা কেউ; আয় চলে আয় এই নরক যন্ত্রনা থেকে, আমি তোকে মুক্তি দেব দেবদূত কালাপাহাড়ের হাত থেকে! কিন্তু কেউ কোথাও নেই, নেই কোনো সমব্যাথী; যার আশ্রয়ে ফেলতে পারি একটু দীর্ঘশ্বাস। এভাবেই দেবালয়ের নরকপুরিতে থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলেছি আমার ধর্মবিশ্বাস তাই আমি আর এখন ধর্মবিশ্বাসী নই, কেন আমি ধর্মবিশ্বাসি হবো?

(মোট পড়েছেন 130 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন