ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডারদের আক্রোশের শিকার দেশের হিন্দু সম্প্রদায়

- মাহবুবুল আলম

৫ জানুয়ারী ২০১৪ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিরোধে ব্যর্থতার আক্রোশে উন্মত্ত বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার মতো এবারও দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর-সহায়সম্পত্তি পুড়িয়ে-গুড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। তাদের একমাত্র অপরাধ দেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার অযুহাতে কেন ভোট শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় ভোট দিতে গেল। ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পরও জামায়াত-শিবিরের মদদদাতা বিএনপি একইভাবে হিন্দুদের বাড়িঘর ধ্বংস করেছিল, লুট করেছিল নারীর ইজ্জত, আর কেড়ে নিয়েছিল ছিল নিরীহ অজ¯্র মানুষের প্রাণ। একই পথ ধরে তারা ২০১৪ সালেও জ্বালিয়ে দিচ্ছে, ধ্বংস করছে শান্তিপ্রিয় নিরীহ সংখ্যালঘুদের সহায়সম্পত্তি।

বিএনপি-জামায়াত ও তথাকথিত ১৮ দলের প্রতিক্রিয়াশীল নেতাকর্মীরা নির্বাচন ঠেকাতে এত হুমকী-ধমকী, নাশকতা সৃষ্টি সংখ্যালঘু হিন্দুদের সম্পদ লুট, ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া, তাদের মেয়েদের ধর্ষণ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দেশের মানুষকে ভোটের লাইনে দাঁড়ানো থেকে বিরত রাখতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা তাদের তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলেছে,“৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা লাগাতার হরতাল-অবরোধে জামায়াতের বিপুলসংখ্যক কর্মী মাঠে নামলেও সেভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে নামেনি। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর যা নাশকতা ও সন্ত্রাস চালানো হয়েছে তা চালানো হয়েছে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে।

লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসিত বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও হাওয়াভবনের কুশিলব তারেক রহমান আইএসআইয়ের যোগসাযস্যে নির্বাচনের আগের দিন নির্বাচন প্রতিহতের জন্য লাদেন স্টাইলে গোপন ভিডিও বার্তা প্রেরণ করে নির্বাচন ঠেকানোর আহ্বান দলের নেতাকর্মীরাই বাস্তবায়ন করতে ঘরের বাইরে আসেনি। কিন্তু জামায়াত তাদের অস্তিত্ব রক্ষার সার্থে নির্বাচনের দিন তাদের আধিপত্য প্রধান এলাকায় সহিংসতা চালালেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন প্রতিহত করতে পারেনি। বরং তারা নির্বাচন প্রতিহত করতে না পেরে ‘প্রথম আলো’ পত্রিকার অনলাইলে প্রকাশিত একটি উস্কানীমূলক প্রতিবেদনকে পূঁজি করে একাত্তরের পরাজিত শক্তি সংখ্যা লঘুদের ওপর ২০০১ পরবর্তী নির্বানের মতো প্রতিহিংসা চরিতার্থ করে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর থেকে জানা গেছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাংচুর, লুট ও অগ্নিসংযোগ করেছে জামায়াত ও বিএনপি। নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ায় তাদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভোটের দিন সন্ধ্যা থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলে নির্মম নির্যাতন, অত্যাচার। তাদের বাড়িঘরই ভাংচুর করা হয়নি, ভাংচুর করা হয়েছে দোকানপাট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র। জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের তান্ডবে ভিত্সন্ত্রস্ত ও অসহায় হয়ে পড়েছে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। দিনাজপুরের এক হিন্দু পল্লীতে সংখ্যালঘু পরিবারের দুই শতাধিক বাড়ি ও অর্ধশতাধিক দোকানপাট ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংখ্যলঘু হিন্দু সম্প্রদায়। যশোরের অভয়নগরের মালোপাড়ায় শিবিরের তা-বে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবার। অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী সহিংসতার পর হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালিয়েছে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। চোরাগোপ্তা হামলারার ঘটনাও ঘটেছে ওই এলাকায়।

দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় দিনাজপুরে সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর পরই ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটেছে। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটদানে অংশ নেয়ায় দিনাজপুরের সদর উপজেলার ১নং ইউনিয়নের একটি গ্রামে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির সশস্ত্র ক্যাডাররা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই শতাধিক বাড়িঘর, প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। একই ঘটনা ঘটেছে বীরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি পল্লীগ্রামে। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের সোনাহারে দুই শতাধিক দোকানপাট, বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সাত পুলিশসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচন-পরবর্তী হামলা, ভাংচুরের ঘটনার পর এলাকার সংখ্যালঘু হিন্দু স¤প্রদায় পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। জামায়াত-বিএনপির ভয়ে তটস্থ সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের অনেকেই এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে।

শুধু দিনাজপর বা যশোরের অভয়নগরই নয় বিএনপি-জামায়াতের নিষেধাজ্ঞা ও হুমকী উপক্ষো করে হিন্দু সম্প্রদায় তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার অপরাধে চট্টগ্রামের বাঁশখালী পশ্চিম চাম্বল ডেপুটি ঘোনা এলাকা, লক্ষীপুরের রামগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া, ফেনী, কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, ভোলা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষিড়া পার্বতীপুরসহ দেশের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় চরম নাশকতা চালায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকমীরা। সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাস ও নাশকতা হয়েছে যশোরের অভয়নগরের চাপাতলা মালোপাড়ায়। এ হামলার ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবির জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানী প্রশাসন। পরিকল্পিতভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে এদেশ থেকে বিতাড়িত করার জন্য হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমন চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি পশুশক্তি, তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জায়গা পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টার্গট করে নির্বাচনের আগের দিন শনিবার পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৮ দলীয় জোটের ক্যাডাররা অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করেছে বিভিন্ন জেলার শতাধিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা, যেগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হওয়ার কথা। ঢাকায়ও একাধিক কেন্দ্রে আগুন দিয়েছে তারা। ভোট বর্জন করে তা প্রতিহত করতে ১৮ দলের ঘোষণার পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে জনমনে ভীতি তৈরি করতে ভোটকেন্দ্র তথা বিদ্যালয়ে আগুন দেয়া শুরু হয়। এর জন্য দেশের মানুষ দায়ী করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয় কে। তিনিই টেলিফোন করে নাশকতার জন্য মাঠে নামিয়েছে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত-শিবিরকে। এর পর শনিবার আরও জঙ্গীরূপ নিয়ে বর্বরতা চালিয়েছে তারা। জরুরী সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস প্রতিরোধে দেশবাসীকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

এ অবস্থায় সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সারাদেশে চলছে প্রতিবাদ সমাবেশ। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর এই মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিক্ষোভ সমাবেশ ও কালো পতাকা নিয়ে মৌন মিছিল করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে সমাবেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। আর গণজাগড়ণ মঞ্চের পক্ষ থেকে আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন ও সংখ্যালঘুদের সহমর্মিতা জানাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোড মার্চ শুরু করেছে।

২০০১ সালের নির্বাচন পরর্বর্তী সহিংসতার মতো দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ও এর পরের দিন বিএনপি-জামায়াত শিবিরের ক্যাডারদের সনাতন ধর্মবলম্বি সংখ্যালঘুদের ওপর নাশকতা সন্ত্রাস, বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়া, লুটপাট ও হিন্দু রমণীদের ধর্ষণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা প্রসঙ্গে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ‘তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রার্থনা’ শিরোনামে দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত নিবন্ধে বলেছে,‘খুব সহজে আমার মন খারাপ হয় না কিন্তু গত কয়েক দিন থেকে আমার খুব মন খারাপ। যারা একনজর পত্রিকার দিকে তাকাবে কিংবা টেলিভিশনে খবর শুনবে তাদেরও মন খারাপ হয়ে যাবে। শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলে এ দেশে মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ভয়ে আতঙ্কে জীবন বাঁচাবার জন্য এই মানুষগুলো নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। বাড়ির মেয়েদের বাড়ি থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। ১৯৭১ সালে হিন্দু-মুসলমান সবাই আক্রান্ত হয়েছিল। মুসলমান হলে কখনও কখনও হয়ত মানুষ বেঁচে গিয়েছে কিন্তু হিন্দু হলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাত থেকে কেউ কখনও প্রাণে বেঁচে ফিরে আসেনি। ১৯৭১ সালে আমরা গ্রামে লুকিয়ে আছি তখন দেখেছি এক হিন্দু মা তাঁর শিশুসন্তানকে বুকে চেপে ধরে স্বামীর পিছু পিছু ছুটে যাচ্ছে, তাদের চোখ-মুখের সে উন্ত অসহায় দৃষ্টি আমি কখনও ভুলতে পারব না। তেতাল্লিশ বছর পর এই বাংলাদেশে এখনও একজন অসহায় হিন্দু মা তাঁর সন্তানকে বুকে চেপে প্রাণ বাঁচানোর জন্য ছুটে যাচ্ছেন। তার মানে যে দেশকে নিয়ে আমরা এত গর্ব করি, সেই দেশটি আসলে তেতাল্লিশ বছরে এক ইঞ্চিও সামনে অগ্রসর হয়নি। এর চাইতে বড় দুঃখ, লজ্জা আর অপমান কী হতে পারে?’ … আমি কার কাছে এটি চাইব জানি না, তাই তরুণ প্রজন্মের কাছে চাইছি। তোমরা আমাদের একটি নূতন বাংলাদেশ উপহার দাও। যে বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প কি চিরদিনের জন্য মুছে দেয়া হবে? আমি জানি তোমরা পারবে।’

কিন্তু আমাদের তথাকথিত সাম্রাজ্যবাদের অর্থ ও মদদপুষ্ঠ সুশীলসমাজ, নোভেল বিজয়ী ড. ইউনূস, বা সদ্য গড়ে ওঠা নাগরিক সমাজ, সুজনসহ বাহারি নামে গঠিত সংগঠনের নেতাদের এর প্রতিবাদে টুশব্দটি করতে দেখছি না। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনকালীন সরকার বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রতি বিরূপ সঘোষিত নাগরিক সমাজের বিরূপ প্রচারনা ও বিএনপি-জামায়াত-শিবির-জঙ্গি সংগঠন দেশের ভেতর মুখোস এঁটে থাকা আইএসআইয়ের পেইড প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের চতুর্মুখী সংহিংসতা ও দেশবিরোধী নাশকতা সৃষ্টির পরও নির্বাচন ঠেকাতে না পেরে যেসব সুশীল নামধারী ভদ্রবেশি দালালরা টেকশো মাতিয়ে বেড়িয়েছিল যে, দেশে-বিদেশে এ নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না; এমন কি এককাঠি আগ বাড়িয়ে বলেছিল এক তরফা নির্বাচনের কারণে দেশ আন্তর্জাতিক অবরোধের সন্মুখীন হতে যাচ্ছে; তাদের সব অপপ্রচার ভ্রান্ত প্রমাণ করে শেখ হাসিনা নির্বাচন করলো এবং সে নির্বাচনে এত নাশকতা ও সহিংতার পরও ৪০ শতাশের ওপর ভোট পড়লো, এবং সেসব অপপ্রচারকারীদের মুখে চুনকালী মেখে ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার ও শপথ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী-সমর্থকদের মনোবল ও সাহস একেবারে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে।

‘জাফর ইকবালের মন্তব্য এবং ফেসবুকের সুশীলদের কথা’ শিরেনামে জনাব দেলোয়ার হোসেন সুশীলদের এ নির্লিপ্ততা নিয়ে সম্প্রতি সহযোগী একটি দৈনিকে লিখেছেন,‘ মুনতাসির মামুন ওদেরকে বলেছেন বাটপাড়। দাউদ হায়দার বলেছেন লুচ্চা। এই লুচ্চারা একদেশদর্শী। ওরা বুদ্ধিজীবী। ওরা সুশীল। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে, যারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা বলে, যারা ধর্মনিরপেক্ষতা ও ’৭২-এর সংবিধানে সম্পূর্ণরূপে ফিরে যাওয়া ও অসাম্প্রদায়িক জাতিরাষ্ট্রের কথা বলে তাদের বিপক্ষে ওরা। আওয়ামী লীগের বিপক্ষে তো বটেই। এই দলটির জাতশত্রু ওরা। আবার জামায়াত-বিএনপি-হেফাজতের শুভাকাংখী। কিন্তু তারা নিরপেক্ষ এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয়। এই লেবেল তাদের গায়ে পাকাপোক্তভাবে আঁটা। …তারা গণতন্ত্রের কথা বলবেন, সংবিধানের কথা বলবেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী গরিষ্ঠের রায় এবং শাসন মেনে চলার কথা বলবেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ হলে গরিষ্ঠতার অধিকারে কিছু করতে পারবেন না। সেখানে লঘিষ্ঠের দাবিই মেনে চলতে হবে। কেমন স্ববিরোধিতা! বড় অদ্ভুত এই লুচ্চাদের চরিত্র। যাক সেসব কথা। ও নিয়ে লিখতে গেলে মহাভারত হবে।… তা হলো লুচ্চাদের সেই অধঃপতিত চরিত্র নিয়ে। গানপাউডার আর পেট্রোল দিয়ে নির্বিচারে জামায়াত-বিএনপির হায়েনারা মানুষ পুড়িয়ে মারবেন, পৈশাচিক ধংসযজ্ঞ চালাবেন, দেশের মানুষকে জিম্মি করে রাষ্ট্র অচল করে দেবেন তা বিলকুল জায়েজ। কিন্তু গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সওয়ার হয়ে চলতে গিয়ে সাংবিধানিক নিয়ম-নীতি প্রতিষ্ঠার ব্রত হিসেবে নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন মোটেও কাক্সিক্ষত নয়, বাঞ্ছিতও নয় এসব লুচ্চার কাছে। তাই যে কোন মূল্যের বিনিময়ে নির্বাচন বন্ধ করতে হবে, এটাই তাদের প্রধান এবং যৌক্তিক দাবি। এই দাবি পূরণ না করাই মহাপাপ।’…মানুষ পুড়িয়ে হত্যার ধ্বংসযজ্ঞ সাধন তাদের কাছে কোন পাপ তো দূরের কথা বরং তা দাবি আদায়ের সর্বোত্তম রাজনৈতিক অধিকার বলেই বিবেচিত। আর তাই সেই নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞের পক্ষেই তথাকথিত মানবাধিকারের ধ্বজাধারী ওই লুচ্চাদের নীরব কিংবা সরব সমর্থন ব্যক্ত হয়ে আসছে গোষ্ঠীবদ্ধভাবে। এই লুচ্চাদের বিরুদ্ধে সেভাবে সংগঠিত বা সোচ্চার হতে পারেনি বিকৃতি ও অপপ্রচারের শিকার প্রতিপক্ষ।’

সবশেষে বলেই শেষ করবো, যেসব সুশীলওয়ালা টকশো মাতিয়ে বলেন,‘ ধর্ম যার যার দেশ সবার’ তাদের এখন কোথায়? মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে ওঠা অসম্প্রদায়িকতার এই বাংলাদেশে যখন আমাদেরই সংখ্যালঘু ভাইদের ওপর ন্যাক্কারজন হমলার মাধ্যমে তাদের বাড়ি-ঘর-সম্পদ লুট করে, মা-বোনদের ইজ্জত হরণ করে তখন তাদের মুখে রা নেই কেন? তারা এখন কোথায়? তাদের মুখে কে কচটেপ মেরে দিল তা জানতে ভীষণ ইচ্ছে করছে।

লেখক: কবি-কথাসাহিতিক ও কলামিস্ট

(মোট পড়েছেন 162 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন