টকশো’কালচার ও আমাদের সুশীল সমাজ

- মাহবুবুল আলম

বাংলাদেশে টকশো কথাটি এখন বেশ পরিচিত একটি নাম। লেখাপড়া জানা বা লেখাপড়া না জানা সবাই মধ্যরাতে টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত আলোচনার অনুষ্ঠান গুলোকেই টকশো বলে চেনেন। তবে এই টকশো শব্দটির বহুমাত্রিক অর্থ ও ব্যঞ্জনা থাকলেও কথাটির আসল অর্থ হলো আত্মপ্রত্যয়মূলক ও আত্মোপলব্দির কোনো সুন্দর কথামালার অনুষ্ঠান কিন্তু আজকাল আমরা গভীর পরিতাপের সাথে লক্ষ্য করছি; আমাদের বেসরকারী চ্যানেলে প্রচারিত টকশোগুলো মানবিকমূল্যবোধ , সুন্দর কল্যাণের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আত্মপ্রত্যয়মূলক ও আত্মোপলব্দির কোনো সুন্দর কথামালার অনুষ্ঠান না হয়ে তা হয়ে যাচ্ছে একপেসে কঠোর সমালোচনামূলক সরকারবিরোধী অনুষ্ঠান।

আমাদের কেনো জানি মনে হচ্ছে দেশের বেসরকারী ইলেক্টোনিক্স মিডিয়ার চ্যানেল সংস্কৃতিতে টকশোর এখন বেশ রমরমা প্রতিযোগিতা চলছে। কোন্ চ্যানেল কত রাজনীতির বিষয় বৈচিত্র নিয়ে তাদের দর্শকদের টকশো উপহার দিতে পারে তা নিয়ে যেন এক অন্তর্গত যুদ্ধ চলছে। আর বিভিন্ন সেমিনার হলে এমনকি বিলাসবহুল হোটেলের বলরুম ভাড়া করেও চলছে গোলটেবিল বৈঠকের আদলে আলোচনা সমালোচনা। তবে টকশো বলি আর গোলটেবিল যে নামেই ডাকি না কেন এ সব অনুষ্ঠানে প্রায়শই সরকার বিরোধিতার রূপ দিনে দিনে বেশ প্রকোট হয়ে ওঠছে। প্রতিষ্ঠান বা বক্তারা নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের যারপর নাই চেষ্টা করলেও তারা যে নিরপেক্ষ নন, তা তাদের কথাবার্তা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজেই ফুটেওঠে। তবু তারা নিজেদের নিরপেক্ষ বা যার আবার পোষাকী নাম সুশীলসমাজ। সুশীল এমন একটি বাংলা শব্দ যার বহমাত্রিক অর্থ বিদ্ধমান। কিন্তু আমরা এদের সবারই রাজনৈতিক, দর্শন বা আদর্শগত পরিচয় জানি। এদের কাউকেই দেশের কোনো ক্রান্তিকালে খোঁজে পাওয়া যায় না। আবার কেউ কেউ বিদেশী অর্থে পরিচালিত এনজিও পরিচালনা করার জন্য নিজেদের নিরপেক্ষতার চাদরে ঢেকে রাখার চেষ্টা করেন কিন্তু গোঁফ দেখে যায় চেনা কথাটির মতো ওদের কথাবার্তা, আচরণেই বোঝা যায় এরা কারা। তবু তারা নিজেদের সুশীল সমাজ ইদানিং আবার নাগরিক সমাজ নামে রাষ্ট্রপতি, কুনীতিক ও দেশের চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে দূতিয়ালি করতে আসা প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে দেখা সাক্ষাত বা পরামর্শ দিয়ে চলেছেন।

আজকাল যারা টকশোতে অংশ গ্রহণ করছেন তাদের অনেকেই এক এগার পরবর্তী সময়ে কিংস পার্টি অনুসারী হিসাবে আবির্ভুত হয়েছিলেন। কিংস পার্টির নেতা, কল্যাণ অকল্যাণ পার্টি খ্যাত নেতৃবৃন্দ, সাবেক এক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, যিনি মাগুরা নির্বাচনের জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাদা দলের এক শিক্ষক যিনি ইতিমধ্যেই ইলেক্ট্রোনিক্স মিডিয়ার টকশোর সার্কিট সদস্য হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ ফাষ্টক্লাশ কেলেঙ্কাকারীর জনক।

এর সাথে আছে ট্রানপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল নামক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা জবাবদিহীতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে; ১৩ জলাই০৯ একটি সহযোগি পত্রিকায় বেরিয়ে আসছে টিআইবির আসল চেহারা শিরোনামে মামুন-অর-রশিদের একটি প্রতিবেদনে টিআইবির অনুমান নির্ভর বিতর্কীত বিভিন্ন রিপোর্ট প্রকাশ নিয়ে এক রকম তুলোধূনা করা হয়েছে। তেমনি ভাবে ২০০২ সালেও একটি টেবলয়েড পত্রিকায় টিআইবির রিপোর্টকে জুয়েল আইচের যাদু বলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, আছেন বাংলাদেশকে পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান করানোর সেই কুশীলবও, সাথে আছেন এক সাবেক সচিব, গান বাজনা জানেন, চাকুরী থেকে অবসর গ্রহনের পর আওয়ামী লীগে ও যোগদান করেছিলেন। শেষে ভাগ্যে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের মনোনয়নের ছিকি না ছিড়াতে চরম আওয়ামীলীগ বিরোধী হিসাবে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করার আপ্রাণ প্রয়াস চালাচ্ছেন। এদের মধ্যে ইদানিং সবচেয়ে আওয়ামী লীগবিরোধী বিপ্লবীর প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মুসা, যিনি এক সময় আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা না পাওয়ায় তিনি চরম আওয়ামী লীগ বিরোধীর সেজে টকশো মাত করছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটা বেসরকারী টেলিভিশনের লাইসেন্স চেয়ে পাননি বলে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ওপর তিনি চরম ক্ষুব্দ। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা নাকি বলেছিলেন, চাচা একটা টেলিভিশন স্থাপন করতে তো কয়েক কোটি টাকার দরকার, আপনি এত টাকা পাবেন কোত্থেকে? আপনাকে লাইসেন্স দিলে তো আপনি তা কারো না কারো কাছে বিক্রি করে দেবেন, এই বয়সে আপনার কি দরকার লাইন্সে নিয়ে। টেলিভিশনের লাইসেন্স না পেয়ে এর পর থেকেই তিনি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আধাজল খেয়ে লেগেছেন। এসব রথি মহারথিরাই আজকাল কুমিরের সাত বাচ্চার গল্পের মত টকশোর নায়ক হিসাবে বার বার টেলিভিশনের পর্দায় হাজির হচ্ছেন। তাদের ভাব সাব কথা বার্তায় যে কারোই মনে হবে; এদের মত এমন টকশো বিশেষজ্ঞদের জন্ম না হলে বাংলাদেশটাই বুঝি রসাতলে যেত। প্রসঙ্গক্রমে এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল-তেনারা ইদানিং নিজেদেরকে টকশো বিশেষজ্ঞ হিসাবে পরিচয় দিতে বেশ গর্ববোধ করেন বলে বিভিন্ন সমালোচকেরা বলে থাকেন। এদের মধ্যে আবার জনভীতি প্রবল। নির্বাচনে দাড়াতে সাহস করেন না। নির্বাচনে দাড়ালেও কৃষক মোঃ সাদেকের চেয়েও কম ভোট পেয়ে লজ্জাস্কর ভাবে জামানত হারান। তাই সর্বদাই তারা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনের পরিবর্তে অসংবিধানিক শাসনই পছন্দ করেন। অসাংবিধানিক শক্তি ক্ষমতা গ্রহণের ক্ষেত্র সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখেন। দক্ষিণ পাড়ার ভাসুরেরা ক্ষমতা গ্রহণ করলে নানাবিদ সুবিধা লুটতে মিউ মিউ করেন। আর তাদের মতাদর্শের বিরোধী কোনো গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। তখন একজোট হয়ে সবাই সরকার বিরোধিতায় লেগে যান।

এইসব সুশীলদের সম্পর্কে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মুনতাসির মামুন দৈনিক জনকন্ঠে ৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘এক ধরনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে, প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে’ নিবন্ধে বলেছেন-“অনেক ফিটফাট ভদ্রলোক যাদের এখন সুশীল বাটপাড় বলা হয়, এদের ব্রিফ নিয়ে দিল্লী ওয়াশিংটন করে বেড়াচ্ছেন। বক্তৃতা বিবৃতি দিচ্ছেন, হাস্য মুখে কথা বলছেন। মাঝে মধ্যে ভাবি শুদ্ধ হারামজাদার সংজ্ঞাটা কী? মাঝে মধ্যে ভাবি কোন্ মাতৃজঠরে এদের জন্ম? মাঝে মধ্যে মনে হয় জারজ বা পাকিস্তানী জারজ শব্দটা কি গালি না প্রশংসাসূচক বাক্য? এদের দেখলে মনে হয়, সারাশরীরে তাদের পোকা কিলবিল করছে। সুবেশি কাপড়-চোপড়ে তারা তা ঢেকে রাখছে এবং কেন অন্যদের শরীরে পোকা কিলবিল করছে না, সে আক্রোশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।”

কিছুদিন আগে প্রখ্যাত সাংবাদিক আব্দুল গফফার চৌধুরী বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক ‘দজ্জালিপনার’ দুই বড় সমর্থক হচ্ছে জামায়াত ও ইউনূস-শিবির। জামায়াত চরম দক্ষিণপন্থী। ইউনূস-শিবির একটি সুশীল সমাজ, দুটি ‘নিরপেক্ষ’ মিডিয়া একপক্ষ বিএনপি ও সুযোগসন্ধানী সাংবাদিক, লেখক সমন্বয়ে গঠিত। এই শিবিরের অধিকাংশই আবার বকেয়া বাম বা সাবেক বাম। অর্থাৎ বিএনপির দুটি শক্তিশালী সমর্থক গ্রুপই হচ্ছে দুই এক্সট্রিম গ্রুপের সমন্বয়। এরা একসময় ছিল বিপরীতমুখী। এখন সুযোগ-সুবিধার লোভে একই স্রোতে এসে মিশেছে। ‘প্রথম আলো’ জামায়াতের সমালোচনা করে, তারেক রহমানকে কেন দুর্নীতির মামলায় খালাস দেয়া হয়েছে সেজন্য (পত্রিকাটির সম্পাদক একবার তারেক রহমান কর্তৃক অপমানিত হয়েছিলেন) ক্ষোভ প্রকাশ করে, কিন্তু তাদের প্রচারণায় বিএনপি-জামায়াতের প্রতি সমর্থনের এবং আওয়ামী লীগের বিরোধিতায় সূক্ষ্ম ধারাটি সচেতন পাঠকের চোখ এড়ায় না।

নুরুন্নাহার শিরীন- টেলিভিশন বিভীষন জুড়েই এখন বিশেষজ্ঞের বিজ্ঞ বয়ানপর্ব শুরু … অবরোধের আর অচল করে দেবার রাজনীতি অবৈধ কি না সেইটা তেনারা ভুলেও আলোচনা করার ধারেকাছে যান না … কারণটা জাতীয় স্বার্থে এইটা যদি মহাবিজ্ঞরা ভাব ধরেন তবে তাদের বিজ্ঞ বয়ানপর্ব জাতির বয়কট করাই সর্বোত্তম।
এবং অই অবরোধকারীগণের বিরুদ্ধে সরকারের ফোর্স সর্বোচ্চ এ্যাকশনে নামুক। এই দেশটা আঠার জটের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি না। অপশক্তির অপব্যবহার কঠোর হাতে দমন করাই উচিত আজ। জাতীয় স্বার্থ দেশের স্বার্থ রক্ষার কথা মূর্খের মস্তিষ্কে কোনওদিন জাগিবে না।
আমরা তাই বাংলাদেশে শিক্ষিত প্রধানমন্ত্রীকেই বারবার চাইবো। যিনি বাংলাদেশ অচল করার কথা জীবন দিয়ে হলেও রুখতে অরাজী নন। কেননা তিনি অপশক্তির গড মাদার নন। মূর্খের মতো দেশের স্বার্থ জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে বসেননি, বসবেন না, জাতির সেই বিশ্বাস আছে বঙ্গবন্ধুকন্যার ‘পরে। এখন আমাদের একটা সুষ্ঠূ সুন্দর নির্বাচনে অংশী হয়েই যোগ্যতর প্রার্থীকে নির্বাচিত করা ও স্বস্তিকর শান্তির বাসভূমে বসবাসের অধিকার প্রয়োগ করার সময়। অপশক্তির দম্ভ নিপাত যাক।

আর এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী তার স্টেটাসে লিখেছেন ১৮ দলের অবরোধ। বলির পাঠা এই স্কুল ছাত্রী ! আমি সেইসব বুদ্ধিবেশ্যাদের বলতে চাই… এমন ধারার গণতান্ত্রিক আন্দোলনই কি আপনারা চান? এমন ধারার গণতান্ত্রিক আচরণই কি আপনারা প্রত্যাশা করেন ? এর মানেই কি গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন ? যদি তাই নাহয় ,তাহলে এমন নির্মমতা কি গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে , আর যারা এর প্রতিবাদ করবে না তাদের কি বলা যায়… সেটাও একটু ব্যাখ্যা করে যাবেন বুদ্ধিবেশ্যা সুশীল সম্প্রদায়।

যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনপ্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি-জামায়াত ও এদের অনুগ্রহভোগীরা একজোট হয়েছেন সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্মন্ধে প্রয়াত বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদ কি বলেছিলেন তার উদ্ধৃতি দিয়েই এই লেখার ইতি টানেব। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আজাদ একটি চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন তাঁর ২০০২ সালে প্রকাশিত ‘আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম’ গ্রন্থে। তিনি যা লিখেছিলেন, “প্রতি পাঁচ বছর অন্তর একজন দেবদূতের (তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান) আগমন ঘটবে, তাঁর সঙ্গে আসবেন ১০ জন সমগোত্রীয় ব্যক্তি, যাঁরা একটি বিশুদ্ধ অবাধ নির্বাচন আয়োজন করে ৩০০ শয়তানের হাতে ক্ষমতা তুলে দেবেন। এই শয়তানরা পাঁচ বছর শয়তানি করবেন এবং তারপর এই শয়তানদের শয়তানির মেয়াদ শেষ হলে আবার নিয়ম অনুযায়ী দেবদূতদের আগমন ঘটবে। তিনি লিখেছেন, ‘অদ্ভুত এক নষ্ট রীতি, দুষ্টচক্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়ে নির্বাচন করে গণতন্ত্র আসতে পারে না।” এ ব্যবস্থায় হুমায়ুন আজাদ আবার বলেছেন, “২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জেতে এবং খালেদা জিয়া দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ১০ অক্টোবর। এ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট এমন বিস্ময়কর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে যে সারা দেশ ভয়ে ও অভাবিতকে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায়; দুই দিন ধরে দেশে কবরের স্তব্ধতা বিরাজ করে। পাখিরাও চুপ করে যায়, আর কাকগুলোও ডাকে না। বিএনপি-জামায়াত জোটও এতটা আশা করেনি, দেশ তো আশা করেইনি, তাই ফলাফলের প্রথম ঘা সহ্য করতে অন্তত দুই দিন সময় লাগে। তারপর শুরু হয় জয়ীদের তাণ্ডব।…হাসিনা যাঁকে দেবদূত ভেবে বঙ্গভবনে নিয়ে এসেছিলেন (বিচারপতি সাহাবুদ্দিন), সে দেবদূতও হাসিনার জন্য কাল হয়ে উঠেছিল। সে-ও এখন একটি ভিলেন, তার গোঁফ আর দেখা যায় না।”

শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট আব্দুল মান্নান সম্প্রতি তার এক নিবন্ধে বলেছেন, “বিভিন্ন সুশীল সমাজ, সুজন সখি পার্টির সদস্য আর একশ্রেণীর মিডিয়া বেগম জিয়ার কাছে এই সংবাদ পৌঁছে দিয়েছে যে, সামনেরবার আপনার ক্ষমতায় যাওয়া অবধারিত। সুতরাং বর্তমান সরকারকে পরাজিত করতে যা যা করার সব কিছুই করে যান আমরা আপনার পেছনে আছি। কিছুদিন আগে এমনি এক হরতালের সময় পুরনো ঢাকায় বিশ্বজিৎ নামের দর্জি দোকানের এক কিশোর কর্মচারী হরতাল বিরোধীদের আক্রমণে নির্মমভাবে মারা গেল। স্বাভাবিক কারণেই চারদিকে হৈচৈ পড়ে গেল। বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া তো সুযোগ পেলেই তার ফুটেজ দেখায়। বিভিন্ন সূত্রে পরে জানা গেছে ঐদিনের ঘটনার পেছনে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কোন কোন সাংবাদিকের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ছিল। কারণ তাদের হরতালের কিছু এক্সক্লুসিভ ফুটেজ দরকার ছিল। সেটি অন্য প্রসঙ্গ। মিডিয়া তো বটেই নানাজনে আঙ্গুল তুলে জানিয়ে দিল ঐ বিশ্বজিতকে হরতালবিরোধী ছাত্রলীগের পিকেটাররা হত্যা করেছে। এই এক বিশ্বজিতকে হত্যার পর কত বিশ্বজিতকে রাজনীতির ক্ষমতার খেলায় বলি হতে হলো তার হিসাব মেলানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু মিডিয়া বলি আর সুশীল সমাজ বলি; সে সব নিয়ে তেমন একটা উচ্চবাচ্য কেউ করে না যেমনটি বিশ্বজিতের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। কারণ এসব ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এদের কাছে আওয়ামী লীগ বলি আর শেখ হাসিনা সকলেই দেশের শত্রু। আর ক’টা দিন সবুর করলে বেগম জিয়া জাতির ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হবেন বলে ইতোমধ্যে চতুর্দিকে চাউড় হয়ে গেছে”

পরিশেষে এই বলেই ইতি টানতে চাই, দেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, এর একদিকে সমবেত হয়েছেন সব মতলববাজ। তাদের অপ্রাণে চেষ্টা যাতে আওয়ামী লীগ কিছুতেই এই নির্বাচন করতে না পারে। এই সুযোগে তারা কামাই করতে চায় টুপাইস একই সাথে তুলে ধরতে চায় নিজেদের অবস্থান ও অপরিহার্যতাও। এদের চিনে রাখা দরকার, এরা রাজনীতির দুষ্টক্ষত। এই দুষ্টক্ষত যতদিন সারানো যা যাবে ততদিনই ভোগতে হবে বাঙালি জাতিকে।

(মোট পড়েছেন 223 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন