জামায়াত-বিএনপি আন্দোলনের নামে প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলছে দেশ পুড়ে মরছে মানুষ

- মাহবুবুল আলম

 

বিগত এক মাসেরও অধিক সময় ধরে বিএনপিজামায়াতের অন্দোলনের নামে প্রতিহিংসার আগুনে জ্বালছে দেশ, মরছে দেশের সাধারণ মানুষ। মানুষের চলাচলের পথ পরিনত হয়েছে মরণফাঁদে। এরই মধ্যে চলন্ত গাড়িতে পেট্টালবোমা, গানপাউডার দিয়ে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে জন সাধারণ নিরীহ মানুষকে আর অগ্নিসন্ত্রাসের শিকারে দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে জীবনমরণের সন্ধিক্ষণে কাঁতরাচ্ছে শতাধিক মানুষ। তাদের অর্তচিৎকারে হাসপাতালের আকাশবাতাস ভারি হয়ে ওঠছে; কিন্তু এতেও মন গলছে না বিএনপিজামায়াতশিবিরের পাষন্ডদের মন। বরং তারা আরো দ্বিগুণ উৎসাহে মানুষ মারার উৎসবে মেতে ওঠে একের পর এক ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিয়েই চলেছে। 

যদিও বিএনপি এসব অপকর্মের দায় চাপাতে চাইছে, সরকার গোয়েন্দা সংস্থার উপর। তারা বলছে, দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্যই সরকার তার গোয়েন্দাবাহিনী গাড়িতে আগুন জ্বেলে মানুষ পুড়িয়ে মেরে, রেলে নাশকতা করে বিএনপির ভাবমূর্তি ধ্বংসের নিষ্ঠুর খেলায় মেতে ওঠেছে। এরই সাথে সুর মিলিয়েছেন দেশের এক ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদক নুরুল কবির। তিনিও বিডি.প্রতিদিনে লেখা এক নিবন্ধে বলছেন এসব সরকারেরই কাজ। কিন্তু তাদের এসব বক্তব্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বা সন্ত্রাসী সংগঠনের ন্যায় শিবিরের ক্যাডাররা সরাসরি এসব সন্ত্রসী কর্মকান্ডের দায় স্বীকার করে ইন্টানেটে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিভিন্ন মিডিয়াতে তুলে ধরছে তাদের সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ফিরিস্তি। হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার না করলেও তারা তাদের কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরছে গণমাধ্যমের কাছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা গেছে যে, গতকাল রবিবারও শিবির তাদের কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে গণমাধ্যমের কাছে যে মেইল বার্তা পাঠিয়েছে তাতে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়িতে আগুন, রেলে নাশকতা, গাছ কেটে বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে রাজপথ, রেলপথ অবরোধের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেছে, অবরোধের দ্বিতীয় দিন রবিবার রাজধানীর ৩৫টি স্থানসহ সারা দেশের ৫৯০টি স্থানে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কাজ করেছে। এসব মেলবার্তায় যেসব চিত্র ফুটে ওঠেছে তাতে বোঝা যায়, এটা তাদের কোনো অপরাধ নয় বরং এসব কাজ করে তারা চরম পুলকিত। এসব কাজ করে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে চরম হুমকীর মুখে ঠেলে দিতেও এদের কোনো দ্বিধা নেই।

প্রিয় পাঠক আমরা যদি গত এক মাসের দেশের সংবাদপত্র বা ইলেক্টনিকস মিডিয়ার বিভিন্ন প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করি তাতেই এই অশুভ শক্তি কতটা সন্ত্রাসী ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠেছে তার চিত্র ফুটে ওঠে। ২৭ অক্টোবর ২০১৩ থেকে ডিসেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত এই এক মাস দিনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের চার দফা হরতাল অবরোধ কর্মসূচিতে কম পক্ষে ৫৭ জন অসহায় নিরীহ মানুষের জীবন হারাতে হয়েছে। রাজনৈতিক অধিকারের নামে এসব ধ্বংসাত্মক সন্ত্রাসী কর্মসূচিতে ২৭ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনেই ককটেল, পেট্টোলবোমা, চলন্ত গাড়িতে অগ্নিসংযোগ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে ১৩ জন। নভেম্বর ২০১৩ থেকে নভেম্বরের হরতালে নিহত হয়েছে জন। ১০ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চার দিনের হরতালে নিহত হয়েছে জন। আর ২৬ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রায় লাগাতর হরতাল অবরোধে ২৭ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই যে এতগুলো মানুষ প্রাণ হারালো এরাতো কেউ না কেউ আমাদেরই,ভাইবোন, মাবাবা না হয় কারো সন্তান। তাহলে কেন এভাবে মানুষ হত্যার উৎসবে মেতে ওঠেছে এইসব রাজনৈতিক দলগুলো।

আর এসব দেশবিরোধী কর্মকান্ড দেখেও যেন আমরা না দেখার ভান করছি। এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দেখেও যেন জাগ্রত হচ্ছেনা আমাদের বিবেক। আমরা যেন সবাই সবাই ইঁদুর হয়ে গেছি। মুষ্টিমেয় গুটিকয়েক সন্ত্রাসী বিড়ালের ভয়ে আমরা আত্মরক্ষার্তে গর্তে ঢুকে যাচ্ছি। কিন্তু আমরাইতো দেশের শান্তিপ্রিয় সংখ্যাগড়িষ্ট নব্বাই ভাগ মানুষ। তবে কিসের ভয়। আসুন সবাই রুখে দাঁড়াই এই অশুভ দেশবিরোধী চক্রকে।  

(মোট পড়েছেন 101 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন