“হ্যারে, এত আবেগ ক্যারে”

- Cool Boy Muhin

“কিরে কামাইল্লা কামে যাবিনা । কয়দিন যাবৎ ঘরে বইসা রইছস । বেপারটা কি ? “ খুব কৌতুহল ভরা চেহারা নিয়ে জিজ্ঞেস করল রইছ উদ্দিন ।
কামাল ঃ নারেহ রইছ, গত কয়েকদিন যাবতৎ কোন কামই হইতাছেনা । মেসি, রোনালদো আর নেইমারেরা আমাগো ভাত মারতাছে । হ্যাগো লাইগ্যা কোন কামই করবার পারতাছিনা ।
কি বুঝলেন ? উপরের কথোপকথন পড়ে নিশ্চই কৌতুহলে চোখ বড় বড় হয়ে গিয়েছে । মেসি, রোনালদো আবার কামালদের ভাত কিভাবে মারে ? কামাল কি কাজইবা করে । কামালের কি এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা অন্য কোন দলের হয়ে খেলার কথা ছিল ? পড়ের লেখাগুলো পড়লেই বুঝবেন ।
রইছ উদ্দিনঃ কি কছ তুই এইসব ? হ্যারা আবার আমাগো ভাত মারব কেমনে ? হ্যারাকি তোর মত চুরি করে ? হ্যারাতো ফুটবল খেলে ।
কামালঃ সমস্যাডাতো ওইহানেই । জানসনা বিশ্বকাপ শুরু হইছে । আর মানুষজন রাত জাইগা হ্যাগো খেলা দেহে । তার লাইগা আমি রাতে চুরি করবার পারিনা ।

হাহাহা । এই বিশ্বকাপে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় উপকার মনে হয় এটাই । সারা রাত জেগে খেলা দেখার দরুন কোন চুরি ডাকাতি হয়না । চুরির কোন খবর ও পাওয়া যায়না । তবে খবর পাওয়া যায় অন্য কিছুর ।

আমরা এতোটাই আবেগপ্রবন যে বিশ্বকাপ এলে নিজের সমরথিত দলের জন্য জীবন ই দিয়ে ফেলি ।
খেলাধুলা সবাই ভালোবাসে । বিশেষ করে ফুটবল । তাই বলে উৎসব উচ্ছ্বাস মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেলে অন্যরকম হয়ে যায়না ? এইতো সেদিন খবরে শুনলাম স্বামির সারা রাতধরে খেলা দেখার দরুন স্ত্রী ঘুমাতে না পারায় স্বামিকে কুপিয়ে যখম করে । পরে স্বামির মৃত্যু হয় । আবার গতবার শুনেছিলাম আর্জেন্টিনা হারাতে এক যুবক আত্মহনন করেছে ।
বিশ্বকাপ এলেই ঘরের ছাদে, গাছে গাছে, খুঁটিতে নিজ সমর্থিত দলের পতাকা উড়তে দেখা যায় । নিজের দেশের পতাকার প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভিনদেশী পতাকা উড়ানো দশের কিছু নয় । তাই বলে এরকম ।
শুনলাম কোন এক ব্যাক্তি জার্মানির অন্ধভক্ত নিজের জমি বিক্রী করে দুই লক্ষ টাকা দিয়ে বিশাল আকৃতির জার্মানির পতাকা বানিয়েছে । তার কথা হল, সে নাকি জার্মানিতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে । তাই জার্মানির প্রতি কৃতজ্ঞতা সরুপ এই আয়োজন । আরে ব্যাটা এতই যদি কৃতজ্ঞতাবোধ থাকে তাহলে যে বাংলাদেশে জন্মনিয়ে তুই বুড়ো হয়ে যাচ্ছিস সে দেশের জন্য কি করলি ? আসলেই আমরা আবেগের খনি ।
নাট্যাভিনেতা মোশারফ করিমের কথায় বলতে ইচ্ছে করছে “হ্যারে, এত আবেগ ক্যারে”
ব্রাজিল বিদ্বেশি এক ভদ্রলোক তো এক কান্ডই ঘটিয়ে ফেললেন । তিনি তার নিজ বারিতে একি খুঁটিতে ব্রাজিলের পতাকা ছাড়া বাকি ৩১টি দেশের পতাকাই তাঙ্গিয়ে রেখেছেন ।

সবারই নিজের পছন্দের দল আছে । সবারই আনন্দ করার অধিকার আছে । কিন্তু সেই আনন্দ যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়ে যায় । আর সেটা হলেতো আমার নিজের দেশই নিচে পড়ে থাকে ।

আমার এই বিশাল লেখার পরিসমাপ্তি ঘটাতে চাই বিশাল এক আশা নিয়ে । আমরা স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ ফুটবলের মহা আসরে খেলবে । তখন এদেশের প্রতিটি ঘরের ছাদে, পত পত করে উড়বে বাংলাদেশের পতাকা । আর ১৬ কোটি অথবা তারও বেশি কন্ঠে ধনিত হতে থাকবে ঃ
বাংলাদেশ বাংলাদেশ, তুমি এগিয়ে যাও, তুমি এগিয়ে যাও ।

(মোট পড়েছেন 409 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন