অধরে ধরা অধরা: উদীয়মান সূর্যের রক্তিম আভা

- Ali Ullah Opu

SOFS একাডেমিক প্রোগ্রামে পড়ানোর সুবাদে যে ক’জন অসাধারণ মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয় তাঁদের মধ্যে অন্যতম তূর্য ভাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র তূর্য ভাই লেখালেখির মাধ্যমে ইতোমধ্যে অসংখ্য পাঠকের মন জয় করেছেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অধরে ধরা অধরা’। ২০১৩ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থে মোট ষাটটি কবিতা আছে। প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলেও ভাবের গভীরতায়, ভাষার সরলতায়, রুচির নির্মলতায় ও সবর্ত্র হৃদয়গ্রাহীতায় প্রত্যেকটি কবিতা অনন্য ও অনুপম। ‘অধরে ধরা অধরা’র তরুণ কবি তূর্য ভাই শুধু ভাব বিহবল চিত্তে প্রেমের গুণরঞ্জনই করেননি, তিনি তাঁর কবিতায় প্রকাশ করেছেন সমসাময়িক রাজনীতির কথা, মাতৃভাষাপ্রীতির কথা, স্বদেশপ্রেমের কথা আর পিতামাতার প্রতি বিশুদ্ধতম ভালবাসার কথা।

‘অধরে ধরা অধরা’ কাব্যগ্রন্থের শেষ্ঠ সম্পদ ‘নিখাদ গর্ব করার মতো বাঙালির কোন কিছুই নেই’, ‘আমার দুচোখে গাঁথা স্বপ্ব’, ‘অথচ তুমি’, ও ‘উপলব্ধি’ কবিতাগুলো। যাদের আত্মত্যাগের ফলে আমরা আমাদের প্রাণের কথা মায়ের ভাষায় জানতে পারছি, সেই আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালবাসা প্রকাশিত হয়েছে ‘নিখাদ গর্ব করার মতো বাঙালির কোন কিছুই নেই’ ও উৎসর্গপত্রে লেখা কবিতাটিতে। বাঙ্গালি হয়েও যারা বাংলা ভাষাকে অবজ্ঞা করে, তাদের প্রতি তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ‘নিখাদ গর্ব করার মতো বাঙালির কোন কিছুই নেই’ কবিতায়। বাংলা ভাষার গুণকীর্তনের পাশাপাশি এ কবিতায় উঠে এসেছে বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠত্বের কথা। যেমন:
“বাংলা ভাষার রয়েছে অজস্র শব্দ সুন্দর
পৃথিবীর যেকোনো ভাষার শব্দ থেকে
কোটিগুণ অর্থপূর্ণ এবং ছন্দময়।”
শুধু তাই নয়, পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলার স্নিগ্ধ আশ্রয় দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি তিনি আহবান জানিয়েছেন।

ঘুণে ধরা এই সমাজের সর্বত্র উৎপীড়ন, ভণ্ডামি, বঞ্চনা, বিরোধ, হীনম্মন্যতা আর নষ্ট-ভ্রষ্ট-দুষ্টদের জয়জয়কার অবস্থা দেখে কবি চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত। ‘অথচ তুমি’ কবিতায় তাঁর এই ক্ষোভের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। যেমন:
“এখানে ‘পা-চাটা’-দের নামের আগে ‘বুদ্ধিজীবী’
ফতোয়াবাজ, চর্বির দোকান-পীরদের নামের আগে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’
অন্ধ, মূক, বধির, মগজহীনদের নামের আগে ‘মাননীয়’
এবং অনুকরণে পারদর্শীদের ডাকা হচ্ছে ‘মেধাবী’ নামে।”
অন্যদিকে, ‘আমার দুচোখে গাঁথা স্বপ্ন’ কবিতায় পরিবর্তনে বিশ্বাসী স্বাপ্নিক কবি তূর্য ভাই এমন একটি নতুন সমাজের স্বপ্ন দেখেছেন যেখানে ধর্ম ব্যবসায়ীদের আস্তানা থাকবে না, থাকবে না লিঙ্গ বৈষম্য; যেখানে দেশীয় সংস্কৃতি চর্চা করা হবে, মেধা হবে যোগ্যতা বিচারের মাপকাঠি; যেখানে একটি সুশিক্ষিত রাজনীতিক গোষ্ঠী থাকবে যারা পারস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

‘উপলব্ধি’ কবির বাবা-মাকে নিয়ে লেখা অসাধারণ একটি কবিতা । এ কবিতায়, তাঁর জীবনের প্রথম নারী এবং নায়িকা, তাঁর মায়ের অদ্বিতীয় ভালবাসা আর স্নেহ মমতার কথা প্রকাশিত হয়েছে; জীবনের সফলতার পেছনে বাবার উৎসাহ এবং প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কথাও প্রকাশিত হয়েছে এই কবিতায়।

রোমান্টিক কল্পনায় বিভোর তূর্য ভাইয়ের কবিতায় প্রেম এসছে অবলীলায়। নর-নারীর শুদ্ধতম প্রেমই তূর্য ভাইয়ের কবিতার অনুষঙ্গ। প্রেমকাহিনী রূপায়নে অথবা বিরহ উপাখ্যান নির্মাণে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর প্রেমের কবিতায় আছে ছোট ছোট সুখ-দু:খের ছবি, মান-অভিমানরে ছবি, স্মৃতি-কাতরতার ছবি, মনস্তত্ত্ব ও আনন্দ-উল্লাসের ছবি; আছে বাস্তবতার সাথে কল্পনার অপূর্ব সমন্বয়। তাঁর প্রেমের কবিতাগুলো দু’টি ধারায় বিভক্ত যার একটি ধারায় আছে প্রাপ্তির কথা এবং আরেকাট ধারায় আছে অপ্রাপ্তির কথা। প্রাপ্তির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন ‘গুনগুন’ চরিত্রটি। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন ‘অনাদ্রিতা’ চরিত্রটি। অনাদ্রিতাকে নিয়ে লেখা কবিতাগুলো হলো-‘অনাহুতের অনাদ্রিতা’, ‘অনাদ্রিতার সাথে স্বল্পকথন’, ‘অনাদ্রিতার অভিমান’, ‘অনাদ্রিতার কাছে চাওয়া’ ও ‘অনাদ্রিতাকে লেখা প্রথম চিঠি’। অনাদ্রিতার কাছে তাঁর চাওয়া, অনাদ্রিতার প্রতি তাঁর ভালবাসা, স্মৃতি-কাতরতা আর রোমান্টিক কল্পনা এ কবিতাগুলোর বিষয়বস্তু। যেমন:
১. “এখনও কি তোমার কপালজুড়ে বসা
কালো টিপ ঈষৎ বামে সরে যায়
আমার স্পর্শে ঠিক মাঝখানে আসার আশায়?

এখনও কি তোমার শাড়ির আঁচল
কোথাও জড়িয়ে গেলে পরে
খুঁজে বেড়াও দাঁতে-কাটা
প্রায় নখবিহীন আমার শীর্ণ আঙুলগুলো?”
[অনাহুতের অনাদ্রিতা]
২.
“অনাদ্রিতা,
এভাবে নয়, আর এভাবে নয়
এবার তোমাকে আমার মতো ভালবাসতে দাও
তোমার শেখানো ভালোবাসার আদর্শলিপি
জুড়ে আছে বর্ণ, অক্ষর;
নিয়ে নিয়ম ভাঙ্গার ভয়
এবার তোমাকে আমার মতো ভালবাসতে দাও!”
[অনাদ্রিতাকে লেখা প্রথম চিঠি]

‘এবং আমি মৃত্যুকেও করবো আলিঙ্গন’, ‘ফিরে এসো গুনগুন’ ও ‘অপেক্ষায় আছি এবং থাকবো’ কবিতাগুলো গুনগুনকে নিয়ে লেখা। গুনগুনের কাছ থেকে তিনি যা পেয়েছেন তা তিনি অত্যন্ত দরদের সাথে উপস্থাপন করেছেন এই কবিতাগুলোতে।

তিনি যেভাবে স্বপ্ন, কল্পনা ও বাস্তবকে একসঙ্গে মিশিয়েছেন, তেমনি ভাব, ভাষা, বিষয়বস্তু, উপমা ও শব্দচয়নে স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করেছেন। শব্দচয়নের ক্ষেত্রে তিনি ঈর্ষনীয় কুশলতার পরিচয় দিয়েছেন। যেমন:
১. “জানালার পর্দা সরিয়ে উঁকি দিয়ে দ্রুত দৌড়ে যাওয়া
প্রতিবেশী মেয়েটির পায়ের পা-জোড়ের,
চকিত সতীচ্ছেদ-এর দুখী-সুখী স্বর,
নর্ম-নর্তকীর নৃত্যরতা পাখির মতো
উড়াল পায়ের নূপুরের আরোহণ-অবরোহণের
নিক্কনিত শিঞ্জনী স্বর;
সুর ও স্বর চিরদিন-ই ঘুরিয়ে মেরেছে আমায়!”
[সুর ও স্বর]
২.
“এখানে নষ্ট কলের মতো কর্কশ কণ্ঠ হতে
অনবরত, একাধারে, চুঁইয়ে-চুইয়ে, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে
প্লাবিত করছে, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে
পুঁজের মতো; বমির মতো-নোংরা, জারজ শব্দগুচ্ছ।”
[অথচ তুমি]

শব্দচয়ন ও শিল্প সামর্থ্যের বিচারে বিষয়বস্তুতে বৈচিতত্র্যময় ‘অধরে ধরা অধরা’ কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতাই অন্যতম-অসাধারণ। এটি বার বার পড়ার মতো এবং সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই। এ কাব্যগ্রন্থের অন্যান্য কবিতাগুলো হলো-‘কবির ঘর’, ‘চাঁদটা ছাড়ে না পিছু’ ‘অপেক্ষা’, ‘আমার প্রচণ্ড হিংসে হয়’, ‘টুকরো অভিমান’, ‘একটি নামহীন কবিতা’, ‘আমি দেখি কৃষ্ণগহবর’, ‘আমি চাই পেতে তারে’, ‘আমি বিশ্বাস করিনা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে ২১শে ডিসেম্বর’, ‘আমার ভেতরে কাঁন্দে অন্ধ সুন্দর এক’, ‘আমার প্রথমা অধির চুম্বন’, ‘আমার কল্পনায় তুমি’, ‘আমাদের স্বেচ্ছা নির্বাসন’, ‘আজ তুমি নেই, তাই’, ‘উত্তর’, ‘তোমায় ভালবাসবো বলে’, ‘তোমার আঠারোতম জন্মদিন চলে গেল গতমাসে’, ‘তোমাকে চুমু খেতে আমার দারুণ অনীহা আজকাল’, ‘তিন ‘অ’-এর সমষ্টি আমি এখন’, ‘তারে হলো না বলা’, ‘তারে দেখি আমি’, ‘স্মৃতিচারণ’, ‘সু্প্ত কথন’, ‘রাত্রি’, ‘অনাগত’, ‘যদি ফিরিয়ে নিই দৃষ্টি’, ‘কথোপকথন কালে এবং শেষে’, ‘কেন ডাকিনি তোমাকে বিশেষ কোন নামে’, ‘কথোপকথন’, ‘কথোপকথন এবং’, ‘না বলা কথা’, ‘ঝরা কথা’, ‘যেদিন ভালবাসা বিদায় নেবে’, ‘একটি নামহীন কবিতা’, ‘এইটুকু জেনো তুমি’ ‘এই কবিতাটি তোমার জন্য নয়’, ‘এ শহরে আমাদের রাত কেটে যায় আধেক ঘুমে’, ‘দৃপ্ত কথন’, ‘বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা’, ‘বৃষ্টি-১’, ‘বৃষ্টি-২’, ‘বলো বন্ধু’, ‘বিধাতার শাস্তি’, ‘বেশ তো যাচ্ছিল কেটে সময় আমার’, ‘আমি খুব সম্ভবত মারা যাবো’, ‘আমি একটি কবিতা লিখতে চাই’ এবং ‘আমি পারবোনা’।

‘অধরে ধরা অধরা’ কাব্যগ্রন্থের ব্যতিক্রমধর্মী একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কবি আরবি-ফারসি শব্দ পরিহার করে এর প্রতিটি কবিতায় অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলা শব্দ ব্যবহার করেছেন। বাংলা ভাষাকে ভালবেসে তিনি বাংলা শব্দেই কাব্য-শরীর নির্মাণ করেছেন যা অবশ্যই প্রশংসনীয়।

ড. হুমায়ুন আজাদ সেমিকোলন ও কমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারা প্রচলন করেছেন। অনেক জায়গায় তিনি দাঁড়ির পরিবর্তে কমা বা সেমিকোলন ব্যবহার করেছেন। যেমন: “নিজেকে বোঝাই, কিছু হয় নি, তোফাজ্জল ভাই এমনি এসেছিলেন ওদের বাড়ি, আমার হয়েই ওকে শাড়ি দিয়েছেন, তিনি জানেন আমাদের কী সম্পর্ক; আমি মিছেই কষ্ট পাচ্ছি, আমার কষ্ট পাওয়ার কোনো কারণ নেই; আমার প্রেম, আমার আবেগ আমাকে কষ্ট দিচ্ছে, আমার এতোটা ভেঙে পড়া হাস্যকর; সুফিয়া আমারই, যেমন আমি তার; সে আমার সুগন্ধ, সে আমার সুস্থতা, আমার জন্যেই সে এখন আরো রূপসী হয়ে উঠেছে; আমি তার চাঁপার সুগন্ধ পাচ্ছি না আমার ইন্দ্রিয়গুলো বিকল হয়ে গেছে ব’লে, ওগুলো অভাবিতভাবে আহত হয়েছে; আমাকে সুস্থ হয়ে উঠতে হবে, ইন্দ্রিয়গুলোকে প্রশমিত করতে হবে। [একটি খুনের স্বপ্ন]”। জহির রায়হান নতুন ধারা প্রছলন করেছেন দাঁড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে।তিনি ড. হুমায়ুন আজাদের বিপরীত কাজটি করেছেন। অনেক জায়গায় তিনি কমার বা সেমিকোলনের পরিবর্তে দাঁড়ি ব্যবহার করেছেন। যেমন: “সাতাশ জন মানুষ। নানা বয়সের। ধর্মের। মতের। আগে কারও সঙ্গে আলাপ ছিল না। পরিচয় ছিল না। চেহারাও দেখিনি কোনোদিন।[সময়ের প্রয়োজনে]”। তূর্য ভাই এক্ষেত্রে ড. হুমায়ুন আজাদ বা জহির রায়হান কারও পথে হাঁটেন নি; তিনি হেঁটেছেন নিজের সৃষ্ট পথে। তিনি অনেক জায়গায় কমা বা সেমিকোলনের পরিবর্তে অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে হাইফেন ব্যবহার করেছেন। তিনি কবিতা এবং গদ্য উভয় ক্ষেত্রেই হাইফেন ব্যবহারে নিজস্ব রীতি অনুসরণ করেছেন। যেমন:
“যদি ফিরিয়ে নিই দৃষ্টি
তোমার অরণ্য-মেঠোপথ-কৃষিজমি-ধানক্ষেত
অন্ধগলি-রাজপথ-টানা বারান্দা-খোলা ছাদ থেকে
বলো-ফিরিয়ে দেবে শূন্যে ছুঁড়ে দেয়া ছোট্ট শিশুর
কোলে এসে পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে দেয়া
প্রানোচ্ছল হাসির মতো সহজাত
তোমার ভেতরে প্রথম প্রবেশ এবং
আমার প্রথম হারিয়ে যাওয়া!”
[যদি ফিরিয়ে নিই দৃষ্টি]

কাব্য রচনার ক্ষেত্রে তূর্য ভাই সামগ্রিকভাবে আধুনিক কবিদের লেখায় অনুপ্রাণিত হয়েছেন বলে মনে হয়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ‘নীরা’ নামক একটি মেয়েকে নিয়ে অনেকগুলো প্রেমের কবিতা লিখেছেন; তূর্য ভাই লিখেছেন ‘গুনগুন’ ও ‘অনাদ্রিতা’কে নিয়ে। ড. হুমায়ুন আজাদই সর্ব প্রথম কবিতার মাধ্যমে উৎসর্গপত্র লিখেছেন। ‘অধরে ধরা অধরা’ কাব্যগ্রন্থটির উৎসর্গপত্র কবিতার মাধ্যমে লিখতে গিয়ে তূর্য ভাই ড. হুমায়ুন আজাদের সেই পথ অনুসরণ করেছেন। তাছাড়া, অনাদ্রিতাকে নিয়ে লেখা একটি কবিতায় ড. হুমায়ুন আজাদের প্রভাব আছে। তবে, অন্যের লেখা দ্বারা প্রভাবিত হওয়া দোষের কিছু নয়। অন্যের লেখা পড়ে সচেতন অথবা অবচেতনভাবে প্রভাবিত হননি এবং নিজের লেখায় সে প্রভাব পড়েনি, এমন লেখক খুব কমই আছেন। হাসান ফেরদৌস তাঁর এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন-“বস্তুত, প্রতিটি নতুন লেখাই এক অর্থে পূর্বতন কোনো না কোনো লেখার সম্প্রসারণ, ঠিক যেমন বর্তমান ‘সময়’ বিগত সময়ের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। এই বহমান চেতনার স্বীকৃতি হিসেবেই আর্জেন্টিনার লেখক বোর্হেস একসময় বলেছিলেন, নিজের সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি কেবল গতকালের নয়, আজকের, এমনকি আগামীকালের লেখকের কাছেও ঋণী। তাই বোর্হেসের কাছে গ্রন্থ, যেকোনো গ্রন্থ, ছিল অন্য অনেক গ্রন্থের সঙ্গে সম্পর্কের অক্ষরেখা”। অন্যের লেখা দ্বারা প্রভাবিত হওয়া প্রসঙ্গে কবি জসীমউদদীন বলেছেন, “পুরাতনের ভিতর যা কিছু মণি-মাণিক্য আছে তাহা ঘষিয়া-মাজিয়া লোকচক্ষুর গোচর করিতে হইবে।”

আমাদের সকেলের মনেই বিচিত্র অনুভূতি খেলা করে, নানা ভাবের উদয় হয়। আমরা সব সময় এই অনুভূতি ও ভাবকে লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারি না। কিন্তু তূর্য ভাই এক্ষেত্রে পুরোপুরি সফল। তিনি সকল সম্ভাবনা নিয়ে বাংলা সাহিত্যাকাশে নতুন সূর্যরূপে উদিত হচ্ছেন। ‘অধরে ধরা অধরা’ সেই সূর্যের রক্তিম আভা। আমরা আশা করি, একদিন তিনি বাংলা সাহিত্য জগতকে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত করবেন; প্রতিষ্ঠা লাভ করবেন একজন সার্থক কবি হিসেবে।

(মোট পড়েছেন 677 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন