লাইফ ইজ বিউটিফুল!

- রানা

-চল।
-কোথায়?
-কাজী অফিসে, বিয়ে করবো।
-বিয়ে? এখন?
-হ্যাঁ! কেন বিয়ে করতে সমস্যা কোথায়?
-হুম সমস্যা। আমি প্রিপারেশন নিয়ে আসিনি।
-প্রিপারেশন? তুমি কি মেয়ে? তোমার আবার কিসের প্রিপারেশন?

হঠাৎ করে মুনার কি হয়েছে তা বুঝতে পারছেনা সজল। গত কয়েকদিন ধরেই শুধু বিয়ে বিয়ে করছে। কিন্তু আজকে একদম নাছোড়বান্দা মনে হচ্ছে। এদিকে সজলের পকেটে হরিণের ছবি ওয়ালা একটি একটাকার নোট ছাড়া কিছুই নেই। আর এই নোটটিও খরচ করা যাবেনা। এটি বন্যা আপু দিয়েছিল, সেই বছর সাতেক আগে যখন বন্যা আপুরা সজলদের বাসায় ভাড়া ছিল তখন। বন্যা আপুও সজলকে অনেকবার বিয়ে করার কথা বলেছিল। কিন্তু সেটা এমনি এমনি, মজা করে। হঠাৎ করে একদিন বন্যা আপুর বাবা ট্রান্সফার হয়ে চলে গেলে বন্যা আপু হারিয়ে যায় সজলের কাছ থেকে। অবশ্য যাবার সময় বন্যা আপু সজলকে চোখ টিপে দিয়েছিল। সেটা দেখেই সজল দৌড়ে বাসার ভিতরে চলে যায়। তবে আজকে সজলের মনে হচ্ছে বন্যা আপুই তার জন্য ভাল হত।

-কি চিন্তা করছো?
-বন্যা আপু…
-বন্যা আপুটা কে?
-না মানে, কেউনা।
-কেউনা মানে কি?
-আমাদের ভাড়াটিয়া। ছিল, এখন নেই। কোথায় আছে তাও জানিনা, আর তাছাড়া আমি কিছু করিনি।
-কি করেছো বল?
-আমি কিছু করিনি। বন্যা আপু চোখ টিপ দিয়েছিল।
-কবে?
-সাত বছর আগে।
-সাত বছর? তোমাদের প্রেম ছিল?
-না।
-তাহলে?
-বন্যা আপু বোধহয় ভালবাসতো।
-তুমি কি সাধু ছিলে? তুমি ভালবাসতে না?
-বাসতামনা, তবে এখন বাসতে ইচ্ছে করছে।
-কেন?
-একটাকার নোটের জন্য।
-একটাকার নোট! তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে?
-না। আগে একটাকার নোটে হরিণের ছবি ছিল, এখন নেই।
-কি সব বলছো?
-হ্যাঁ, এখন তো সব কয়েন হয়ে গেছে। মানিব্যাগে রাখা যায়না। ঝনঝন শব্দ করে। যখন তখন পরে যাবার ভয় থাকে।

মুনা বুঝতে পেরেছে সজল আসলে বিয়ে করতে যাবেনা বলে পাগলামী শুরু করছে। এখন উল্টাপাল্টা কথা বলবে কিছুক্ষন, তারপর বিয়ে বিষয়টা এড়িয়ে গেলেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে সজল। তখন হয়তো গলা ছেড়ে একটা গান গাইবে। সে গান শুনে মুনাও ভুলে যাবে বিয়ের কথা। ভুলে যাবে একটু আগে বাড়িতে তার বাবা শেষ আর্টিমেটাম দিয়ে বিয়ে করার জন্য। ভুলে যাবে বিকেলবেলা তাকে দেখতে আসবে ছেলে পক্ষ। ভুলে যাবে সজলকে সিরিয়াস হতে বলার উপদেশ।

-মুনা, চল বিয়ে করে ফেলি।
-বলকি? এখনি না বিয়ে করবেনা বলে কত পাগলামী করলে?
-বন্যা আপু নাই, তোমাকেই বিয়ে করতে হবে।
-মানে কি?
-একটাকার নোট, হরিণের ছবি আছে।
-কি বলছো এসব?
-হ্যাঁ। আগে বন্যা আপু ছিল, হরিণও ছিল। এখন বন্যা আপুও নেই হরিণও নেই।
-তো?
-এখন কয়েন আছে, তুমি আছো!
-মানে?
-কয়েন দিয়েই তো কাজ চলছে নাকি?
-হ্যাঁ। তো?
-তোমাকে দিয়েও চলবে!

মুনা কিছু বুঝতে পারছেনা। আপাতত সজল তাকে জোর করে নিয়ে যাচ্ছে কাজী অফিসে। মুনা নিজেকে ছেড়ে দিয়েছে সজলের হাতে। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে। ছেলেরা বোধহয় এমনি হয়! হুট করে পাগলামীর ছলেই নিয়ে নেয় জীবনের সবচেয়ে বড় কোন সিদ্ধান্ত। সজলের হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে মুনা। খুব বলতে ইচ্ছে করছে, সজল লাইফ ইজ বিউটিফুল!

(মোট পড়েছেন 270 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন