আমরা রক্ত মাংসে মানুষ, তবে মনের দিকে অমানুষ

- Cool Boy Muhin

আজকে একই বিষয়ের দুটি ভিন্ন ঘটনা নিয়ে লিখব ।
ঘটনা ১ঃ
গতদিনের মত সেদিনও গনভবনে ইফতার পার্টি । তবে আজকে আর ইফতার পার্টি নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছে নেই ।
যথারীতি হাটা শুরু করলাম শ্যামলি থেকে গন্তব্য কলাবাগান । অনেক খানি রাস্তা হেটে মানিকমিয়া এভেনিও পর্যন্ত এসেপড়েছি । ব্যাস্ত রাস্তা পার হয়ে সামনে এগুতেই এক বয়স্কা মহিলার পিছন থেকে ডাক ।
“এই যে বাবারা একটু হুনো” । ওনার কাছে এগিয়ে গেলাম । এগিয়ে যেতেই বলতে লাগল “আমি টাউন হলে যামু, টাউন হলডা কোন দিকে ?” । বুঝলাম গ্রাম থেকে হয়তবা শহরে এসেছেন ।
আমরা জিজ্ঞেস করলাম “আপনি টাউন হলে যাবেন তো এখানে নামলেন কেন ?”
উনি বললেন “বাসের হেলপার আমারে এইহানে নামায় দিছে ।” আমার সাথের জন বলল “আপনি এক কাজ করেন রাস্তা পারহয়ে সামনে থেকে রিক্সা নিয়ে আসাদ চলে যান অথবা সামনে আসাদ গেট পর্যন্ত গিয়ে রিক্সা নিয়ে চলে যান” । মহিলা কিছুক্ষন দূরে তাকিয়ে থেকে দুঃখ দুঃখ ভাব নিয়ে বললেন “তাইলে আমারে এইহানে নামায় দিল ক্যা” । দেখলাম মুরুব্বির সাথে ২/৩ টা ব্যাগ রাস্তা পার হয়ে যেতে কস্টই হবে । আমরাও একটা অন্যায় করে ফেলেছিলাম । আমাদের উচিৎ ছিল উনাকে রাস্তা পার করে রিক্সা ঠিক করে দেয়া । কিন্তু কি করব, শ্যামলি থেকে হেটে এসেছি,তার উপর ইফতারের আর ১৫ মিনিট বাকি ছিল । তাই এই অন্যায়টা করতে বাধ্য হলাম ।

ঘটনা ২ঃ
আজকে ধান্মন্ডি ৩২ থেকে বাহন বাসে করে শ্যামলি যাচ্ছি । আসাদগেট থেকে একজন উঠলেন । বাসের কন্ডাক্টারটাকে ভাল মনে হল । সেই লোক্টার কাছে ভাড়া চাইতে আসামাত্র লোকটি বলল “মামু খাড়াও, আগে এই নাম্বারডাতে ফোনে কথা কও । আমি দেশের বাড়ি থাইকা আইছি, কই নামতে হইব একটু হুন” ।
কন্ডাক্টর ফোন করে জানতে পারল লোকটিকে কাজিপাড়া নামতে হবে । বাসটি যাচ্ছিল মিরপুর ১ । লোকটি তখন ভাড়া দিতে চাইলে কন্ডাক্টর বলল “ভাড়া রাখেন । ভাড়া লাগলে আমি চাইয়া নিমু । আফনেরে ‘সেফটি’ বাসে তুইলা দিমু, কাজিপাড়া নামতে হইব।” কলেজগেট আসার পর কন্ডাক্টার বলল ভাই নামেন সামনে সেফটি বাস দেখা যায় ওইটাতে উঠেন, আপনার ভাড়া দেওন লাগবনা ।
অথচ কন্ডাক্টার চাইলে সামান্য কয়টা টাকা ভাড়ার জন্য লোকটাকে মিরপুর পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে নামিয়ে দিয়ে বলতে পারত কাউকে জিজ্ঞেস করে কাজিপাড়ার বাসে উঠে যান ।
ঘটনা ৩ঃ
কিছুদিন আগে ৭ নাম্বার বাসে করে যাচ্ছিলাম। বাস যাচ্ছিল মিরপুর রোডে সাইন্সল্যাবের দিকে । পাসের সিটে বসা এক মুরুব্বি পেশায় প্রধান শিক্ষক (পরে জেনেছিলাম) একটা কাগজ এগিয়ে দিয়ে বলল আঙ্কেল দেখত ঠিকানাটা কোথায় ? দেখলাম লেখা আছে সিটি হাঁসপাতাল । আমার সাথের জন বলল “আঙ্কেল আপনাকে তো সিটি হাসপাতালে নামতে হবে, আপনি এদিকে যাচ্ছেন কেন?” । মুরুব্বী বললেন আমিতো চিনিনা বাবা, কন্ডাক্টার বললেন আমাকে নামিয়ে দেবে । কিন্তু বাসটি যাচ্ছিল নিউ মার্কেটের দিকে ।
কন্ডাকটারকে জিজ্ঞেস করলাম “চাচা মিয়াকে কোথায় নামাবে ?” সে কোন কথা বলেনা । আবার বললাম “ওই কথা বলনা কেন? চাচা মিয়াকে কোথায় নামাবে । তুমি সিটি হাস্পাতাল চিন?” সে নিজেই সিটি হাস্পাতাল চিনেনা । তার পরেও বলল চিনিতো সামনেই । তখন আমার সাথের জন বলল ওই মিয়া সামনে মানে, সামনে সিটি হাস্পাতাল নাকি ? কন্ডাক্টার বলল “হ সিটি কলেজের সামনে নামাইয়া দিমু” । মেজাজটা তো সপ্তমে চড়ে গেল । আমার সাথের জন বলল “ওই মিয়া ফাইজলামি কর । সিটি কলেজ আর সিটি হাস্পাতাল এক হল ? মানুষকে বোকা পাইলেই যা খুশি তাই কর ?” মুরুব্বিকে নামানো দরকার আসাদ্গেট অথবা শুক্রাবাদ । অথচ পাঁচটা টাকা বেশি নেবার জন্য কন্ডাক্টা নিজে না চেনা সত্তেও উনাকে সিটি কলেজ নামিয়ে দিবে । সেখানে মুরুব্বিকে হয়ত আবারো ভোগান্তিতে পড়তে হত ।
এই হল তাদের অবস্থা। যারা কিছু বোঝেনা, অসহায়, যাদের বিপদে ফেললে তারা কোন প্রতিবাদ করতে পারবেনা ঠিক তাদেরই বারে বারে বিপদে ফেলে ।
অনেকে বলেন, খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর আর শ্রমিকদের সাথে ভালো আচরন কর ।
তারা যদি ২য় ব্যাক্তির মত ভালো হয় তবে অবশ্যাই তাদের সাথে ভালো ব্যাবহার করব । আর তারা যদি অত্যন্ত খারাপ এবং নিচু মনের মানুষ হয় । অসহায় এবং অবুঝ ব্যাক্তিদের বিপদে ফেলতে কুন্ঠাবোধ করেনা তাদেরকে রাস্তা ঘাটে ধরে গন ধোলাই দেয়াটা আমি কোন অপরাধ মনে করিনা ।

(মোট পড়েছেন 422 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন