তোমাকে কষ্ট দেই বলে দুঃখিত মা

- Cool Boy Muhin

আম্মু আমার টিশার্ট টা কোথায়, আম্মু আমার প্যান্টটা কোথায় ? আমার এই জামাগুলো ধুয়ে রেখোতো ।
আমাকে এটা বানিয়ে দাও, আমার জন্য ওটা রান্না কর । ঠিক এভাবেই নানা রকম দাবি দাওয়া নিয়ে মা কে বিরক্ত করতাম, জ্বালাতাম । অনেকটা বড় হয়েও মাকে কস্ট দেয়া বন্ধ করিনি । যে কাজটা আমি নিজে করতে পারতাম কিংবা নিজের করা উচিত ছিল, সেই কাজটাও আলসেমী করে মাকে করতে বলতাম । আমার মা হয়ত এগুলো করতে আনন্দ বোধ করত, ভাবত আমি এখনও ছোট, কিছু শিখিনি ।
কিন্তু কষ্টটা তখন পেত যখন আমার কোন কাজ ঠিক মত না করাতে আমি রাগের সূরে কথা বলতাম ।
তখন আমি অনুতপ্ত হতাম । ভাবতাম, এ আমি কি করলাম ।
যখন ভার্সিটিতে পড়ি খুব সকালে বাসা থেকে বের হতে হত । মা প্রতিদিন শীতের সকালে ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে খাবার তৈরি করত । আর আমি শাহেবজাদার মত ৭ঃ৩০ এ ঘুম থেকে উঠেই তৈরি খাবার খেয়ে বেরিয়ে পরতাম । মাঝে মাঝে খাবার রান্না বিলম্ব হলে রাগ করতাম । কথা গুলো মনে পড়লেই কষ্টলাগে ।
আমি যখন ঢাকাতে চলে এলাম একা একা থাকতাম তখন মা প্রতিদিন আমাকে ফোন করে খবর নিতেন । আমি বিরক্ত হতাম । তাকে বলতাম প্রতিদিন ফোন করার কি আছে । কিন্তু আমি ভাবিনি কখনো যে এটা মায়ের মন । তিনি ভাবেন এই বুঝি তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, এই বুঝি আমি বিপদে পড়েছি ।

ঠিক এমনিভাবে পৃথিবীর সব মায়েরাই তাদের ছেলেকে আগলে রাখেন মায়ার বাধনে । কিন্তু আমরা হতভাগ্য ছেলেরা সেটা বুঝিনা ।

কিন্তু মা এখন আমি বুঝি , এখন আমি আর জামা কাপর খুজে দিতে বলিনা, এখন আমি নিজের কাপর নিজেই ধুই । এখন আমি প্রতিদিন মায়ের সাথে ফোনে কথা বলি, একটুও বিরক্ত বোধ করিনা । এখন আমি সবই করি কিন্তু মার অভাবটা অনুভব করি খুব বেশি ।
মার সাথে যে বহুদিন দেখা নেই । আজকে মা দিবসেও মা পাশে নেই । আমি যে অনেক দূরে । এখন আমি আমার মাতৃকোলে যাবার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি ।
তোমাকে কষ্ট দেই বলে দুঃখিত মা ।
এই মা দিবসে সকল মাকে জানাই আমার অজস্র সালাম এবং শ্রদ্ধা ।

(মোট পড়েছেন 255 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন