বাবা, তোমার চোখে পানি ? নারে, চোখে কি যেন পড়েছে

- Cool Boy Muhin

ছোট্ট ফাহিমের তার বাবার কাছে একের পর এক প্রশ্ন ঃ
ফাহিমঃ বাবা, ওইটা কি ?
বাবা ঃ বাবা, ওইটা হাস ।
ফাহিমঃ বাবা, ওইটা কি ?
বাবাঃ ওইটা হাস ।
ফাহিমঃ বাবা, হাস কি খায় ?
বাবাঃ হাস নুড়ি পাথর, শামুক খায় ।
ফাহিমঃ বাবা, হাস শামুক কেন খায় ? কিভাবে খায় ?
কোন রকম বিরক্ত না হয়ে আদরের ছোট্ট ছেলেটির একের পর এক প্রশ্নের জবাব দিয়ে যাচ্ছিলেন বাবা শফিক সাহেব । কারন তিনি জানেন তার ছেলেটি এখনও খুব ছোট, কিছু বোঝেনা ।
ছোট্ট ফাহিম বাবাকে ছাড়া যেন একেবারে থাকতেই পারেনা । রাতেও বাবার সাথেই ঘুমায় । ঘুমানোর সময় যদি বিদ্যুৎ চলে যায় তখন ফাহিম বলে “বাবা আমিতো গরমে ঘুমাতে পারছিনা” । তখন শফিক সাহেব আদরের ছেলেকে বলেন “বাবা, তুমি ঘুমাও, আমি বাতাস দিচ্ছি” । এভাবে হাত পাখা দিয়ে রাতভর বাতাস দিতে থাকেন বাবা যেন ছেলের কোন কস্ট না হয় । ফাহিমও ঘুমিয়ে পড়ে । এক সময় বাবা যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েন বাতাস করা বন্ধ করে দেন । ঘুমের মদ্ধে ফাহিম একটু নড়ে উঠলেই বাবা ভাবেন এই বুঝি ফাহিম গরমে জেগে উঠল, উনি আবার বাতাস দিতে থাকেন ।

এমনিভাবে ফাহিমকে সবসময় চোখে চোখে রাখতেন বাবা শফিক সাহেব ।
দেখতে দেখতে ফাহিম অনেক বড় হয়ে গেল । বাবার বহু কস্টের টাকায় সে শিক্ষিত হয়ে ভাল একটা চাকরি পেল । এখন সে অনেক টাকার মালিক । বিয়ে করে বাবা এবং স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার একটি ফ্লাটে থাকে সে । শফিক সাহেব এখন ওনেক বৃদ্ধ । ফাহিম যেমন ছোট্টবেলায় সল্পবুদ্ধির ছিল, নানারকম প্রশ্ন করত, তিনিও সেরকম সল্পবুদ্ধির হয়ে গেলেন এবং নানারকম প্রশ্ন করতেন । মানুষ বৃদ্ধ হয়ে গেলে একেবারেই শিশুর মত হয়ে যায় । বাবার মুখে এসব প্রশ্ন শুনে ছেলে ফাহিম বিরক্ত হত । রাগ্বত সুরে কথা বলত ।

বাবাঃ বাবা ফাহিম, আজ কত তারিখ ?
ফাহিমঃ আজ ২০শে এপ্রিল ।
বাবাঃ কত তারিখ বললি?
ফাহিমঃ (বিরক্ত হয়ে) তুমি ইদানিং কানে এত কম শোন কেন ? এক কথা কতবার বলব ?
ফাহিমের কথা শুনে বাবা নির্বাক হয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলেন আর মনে মনে ভাবলেন “বাবা, তুই যখন সেই ছট্টটি ছিলি তখন আমাকে একি প্রশ্ন আমি উত্তর দেয়া সত্বেও হাজারবার করতি । আমিও বিরক্ত না হয়ে একি উত্তর বার বার দিতাম । আর আজ তুই একটি প্রশ্নের উত্তর একবারের বেশি বলতে পারলিনা”।
শফিক সাহেবের শোবার কক্ষের ফ্যানটা নস্ট হয়ে গিয়েছে, গরমে ঘুমাতে পারেননা । তিনি ছেলেকে বললেন,
বাবাঃ বাবা ফাহিম, আমিতো গরমে ঘুমাতে পারিনা ফ্যানটা একটু ঠিক করে এনে দে না বাবা ।
ফাহিমঃ কি দরকার কতগুলো টাকা নস্ট করে ফ্যান ঠিক করার ? আর এখন কি গরমইবা পড়েছে? এটুকু গরম সহ্য হয়না তোমার ?
শফিক সাহেবের চোখের কোনে পানি চিক চিক করতে লাগল । তিনি ভাবলেন “তুই যখন চোটবেলা গরমে ঘুমাতে পারতিনা আমি তখন সারা রাত জেগে তোকে বাতাস দিয়েছিলাম আর তুই এখন সামান্য টাকার জন্য আমাকে গরম সহ্য করে থাকতে বলছিস” ।
বাবাঃ ফাহিম, আমার চশমার পাওয়ার কমে গিয়েছে কিছু ভাল দেখিনা । নতুন একটা চশমা কিনে দেনা বাবা ।
ফাহিমঃ (আরো বিরক্ত হয়ে) চশমা কেনার আবার কি দরকার । কোন কাজতো করতে হয়না। সারাদিনতো ঘরেই বসে থাক, চশমা লাগবেনা ।

ফাহিম একদিন চিন্তা করে বাবার এই আবদার সেই আবদার আর ভাললাগেনা । বাবাকে বরং বৃদ্ধা আশ্রমে দিয়ে আসি । সে বাবাকে বৃদ্ধা আশ্রমে পাঠানোর বেবস্থা করতে থাকে । শাফিক সাহেব ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ছেলের কাছে কান্নাকাটি শুরু করে ।

বাবাঃ বাবা ফাহিম, আমি কি তোর এতটাই বোঝা হয়ে গিয়েছি যে আমাকে তাড়িয়ে দিতে চাইছিস ?
ফাহিমঃ তাড়িয়ে দিচ্ছিনা বাবা । তুমি এখানে কস্টে আছ । যেখানে তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি সেখানে তুমি বাকি জীবন খুব আরামে থাকতে পারবে।
বাবাঃ না বাবা, আমি এখানে আরামেই আছি । তোর সাথে, বৌমার সাথে, দাদু ভাইয়ের সাথে খুব আরামেই আছি । কেউ আমাকে কস্ট দেয় না । আমাকে পাঠিয়ে দিসনা বাবা । তুই যখন ছোট ছিলি তখন তুই আমার কাছে আরামে ছিলিনা ? আমি কি তোকে অন্য কোথাও পাঠিয়ে দিয়েছিলাম ?
ফাহিমঃ বাবা, তুমি সেখানে আরো বেশি শুখে থাকবে ।
বাবাঃ তুইনা ছোট বেলায় আমাকে ছাড়া একমুহুর্তও থাকতে পারতিনা, এখন কিভাবে পারবি ?
ফাহিমঃ তখন তো ছোট ছিলাম। এখন তো অনেকে আছে, আমি একা কোথায় ?
বাবাঃ আমিওতো এখন ছোট, আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারবনা বাবা, তুই আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিসনা । আমি গরমেই থাকব, আমাকে চশমা কিনে দিতে হবেনা, তারপরেও আমাকে তাড়িয়ে দিসনা ।
বাবা শফিক সাহেবের এরকম করুন কাকুতি মিনতিও পাষাণ ছেলের মন গলাতে পারলনা । অবশেষে সে তার বাবাকে বৃদ্ধা আশ্রমেই রেখে এল ।

উপরের চরিত্র দুটি কাল্পনিক কিন্তু এরকম ঘটনা বাস্তবে অহরহ ঘটছে । যেই ছেলেমেয়েদের কে বাবা মায়েরা কখনও বোঝা মনে করতনা সেই বাবা মায়েরাই একসময় নিজের সন্তানদের কাছে বোঝা হয়ে ওঠেন ।

নিচের করুন ঘটনাটিই এর প্রমানঃ
http://www.banglanews24.com/beta/fullnews/bn/271773.html
বয়স্ক বাবার স্থান ডাস্টবিনে!

(মোট পড়েছেন 658 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন